’চাঁদারাজমুক্ত এবং নাগরিক সেবামুখী বাংলাদেশ ২.০’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) গাইবান্ধায় নতুনভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছে। এ উপলক্ষে বুধবার (১০ জুন) বিকেলে গাইবান্ধা পৌর শহরের ১নং রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় দলটির জেলা অফিস আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় এবি পার্টির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমও শুরু করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে সেবামুখী ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এবি পার্টির মূল লক্ষ্য। তারা অভিযোগ করে বলেন, গাইবান্ধায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে কিছুজন নিজেদের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘরানার পরিচয়ে পরিচিত করলেও অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও শক্তিকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।
বক্তারা আরও বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে উপেক্ষা করা হলে জেলায় সক্রিয় প্রায় ১০টি রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে কঠোর কর্মসূচি ও আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।
অনুষ্ঠানে দুই আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিমের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনামূলক বক্তব্য উঠে আসে। বক্তারা তার কার্যক্রম ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য বা অন্য কোনো পক্ষের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন-
এবি পার্টি গাইবান্ধা জেলার আহ্বায়ক মোঃ খায়রুল আলম, সদস্য সচিব মোঃ মোজাদ্দেদুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ রশিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাইদুল কালাম, রনি সরকার, সদর উপজেলা আহ্বায়ক মোঃ রানা মিয়া, পলাশবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ মেহেদী হাসান, জেলা পর্যায়ের নেতা মোঃ মোস্তফা কামাল, শরিফুল ইসলাম, জামাত নেতা-ফেরদৌস সরকার (রুম্মান), ছহীহ আহমেদ ছোটন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গাইবান্ধা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মোছা: কাজল খাতুনসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অফিস উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে তবারক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন দলের এমন বক্তব্য ও অবস্থান আগামী দিনে গাইবান্ধার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা ও সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
অনুষ্ঠান শেষে নেতারা আশা প্রকাশ করেন, তরুণ ও সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এবি পার্টি ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবে এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিকাশে অবদান রাখবে।