July 29, 2026, 5:39 pm
শিরোনাম:
গঙ্গাচড়ায় গর্তে রাস্তার বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি গাইবান্ধায় আড়াই বছর ধরে আটকে রয়েছে ৭টি সেতুর কাজ, ৪টি সেতুর কাজ শুরু হয়নি রামগতিতে পানির লাইন খুঁড়তে মিলল তিনটি মর্টার শেল সদৃশ বস্তু নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩ এর উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সুধী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে “নাগরিক ভাবনাঃ আমাদের করণীয়” শীর্ষক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী মাদকবিরোধী অভিযানে কৃতিত্বের স্বীকৃতি, সম্মানিত রাঙ্গামাটি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আলমগীর শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আটক ৩ জাপানে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

সীমানা পিলার কাণ্ডে ৪ আটক/ নেপথ্যের মূলহোতারা কি ধরা-ছোঁয়ার বাইরে?

শাহরিয়ার কবির,পাইকগাছা (খুলনা) 

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার আলোচিত সীমানা পিলার কাণ্ডে চারজন গ্রেপ্তারের পর নতুন করে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কথিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একটি সীমানা পিলার উদ্ধার হলেও স্থানীয়দের প্রশ্ন—এত বড় লেনদেনের আলোচিত ঘটনায় কি কেবল চারজনই জড়িত, নাকি নেপথ্যে রয়েছে আরও প্রভাবশালী একটি চক্র?
তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের কলাগাছি গ্রামে অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের মধ্যে রয়েছেন পাইকগাছা উপজেলার লস্কর গ্রামের তুষার কান্তি সরকার ও সুশান্ত সরকার। তবে ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে উপকূলীয় অঞ্চলে কথিত মূল্যবান পিলার, পুরাকীর্তি ও গুপ্তধন বাণিজ্যের নামে যে সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গেও তাদের কোনো যোগসূত্র আছে কি না।


স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সাধারণত কয়েকজন মাঠপর্যায়ের সদস্য সামনে থাকলেও অর্থের যোগানদাতা, ক্রেতা সংগ্রহকারী এবং কথিত বিশেষজ্ঞ পরিচয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়। ফলে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা পুরো চক্রের প্রতিনিধিত্ব করেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে কোটি টাকার স্বপ্ন দেখিয়ে প্রত্নসম্পদ বা বিরল বস্তু উদ্ধারের নামে অনেককে ফাঁদে ফেলা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূল পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে সীমানা পিলার কাণ্ডেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল বাড়ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের মোবাইল ফোন, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে পিলারটির সম্ভাব্য ক্রেতা, মধ্যস্থতাকারী এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত এগোচ্ছে।
সচেতন মহলের দাবি, শুধু ঘটনাস্থল থেকে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না, পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে কারা এ ধরনের প্রতারণার নেপথ্যে রয়েছে, তা উদঘাটন করতে হবে। অন্যথায় একের পর এক অভিযানে সদস্যরা ধরা পড়লেও মূলচক্র অধরাই থেকে যাবে।
এখন দেখার বিষয়, তদন্ত শেষ পর্যন্ত চারজন গ্রেপ্তারেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি উন্মোচিত হয় সীমানা পিলার বাণিজ্যের নেপথ্যের বৃহত্তর চক্রের মুখোশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *