দিনাজপুরের হিলি সীমান্তসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক অবৈধভাবে পুশইনের একাধিক অপচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (০৬ জুন) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে হিলি সীমান্তের ঘাসুড়িয়া এলাকায় ৫ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়, আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
একইদিনে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা সীমান্তে কিছু ব্যক্তিকে পুশইন করার চেষ্টা করা হয়েছে। একইভাবে পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ি সীমান্তে শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিদেরও পুশ-ইন করার অপচেষ্টা চালাতে দেখা যায়।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে অন্তত ৮টি পৃথক স্থানে পুশইন প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে ৩ জন, নওগাঁর করমুডাঙ্গা সীমান্তে ১৭ জন, তিস্তা অঞ্চলের বড়খাতা ও পঁয়ষট্টিবাড়ি সীমান্তে ২১ জন এবং লালমনিরহাটের দিঘলটারী ও দুর্গাপুর সীমান্তে মোট ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়— যা আন্তর্জাতিক সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা আইন পরিপন্থী কাজ।
নীলফামারীর পঞ্চগড় সীমান্তে ১০ জনকে কাঁটাতারের বাইরে এনে অবস্থান রাখতে দেখা যায়। অপরদিকে নেত্রকোনার কচুগড়া সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ১৬-১৭ জন ব্যক্তিকে জড়ো করে রাখা হয়েছে বলে জানান সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ।
শনিবার (০৬ জুন) এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ-এর প্রধান সমন্বয়ক মোঃ মোস্তফা আল ইহযায। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সীমান্তে অবৈধভাবে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশি পরিচয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর অপচেষ্টা চলাচ্ছে বিজেপি সরকার —আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী’র নেতৃত্বে ভারতীয় মুসলমান ও বাংলাভাষী ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে জোরপূর্বক পুশইন করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের যথাযথ পরিচয় শনাক্ত করে কূটনৈতিক চ্যানেলে সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে ‘পুশইন’ নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সীমান্ত পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল, নিরাপত্তাহীন ও উদ্বেগপূর্ণ করে তুলছে। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায় সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি) কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করায় তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যে কোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনের কঠোর প্রয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি।
সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এ ধরনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও কূটনৈতিক উভয় পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অনতিবিলম্ব সীমান্ত নিরাপত্তা জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানান।
সীমান্তে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশইন, অনুপ্রবেশ বা সীমান্তসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে সচেতন ও সোচ্চার থাকুন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, সীমান্তবর্তী জনগণের সক্রিয় সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম বা জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টা সম্পর্কে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করা জরুরি। একই সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখার জন্য দেশের সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানাই।