June 5, 2026, 8:36 pm
শিরোনাম:
নাচোলে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু  নরসিংদী মাধবদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ, একজন গ্রেপ্তার ঘেরাবেড়া দিতে গিয়ে সংঘর্ষ, পাইকগাছায় আহত-৪ ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জ্যৈষ্ঠের ফলের ঘ্রাণে জমে উঠল মৌচাকের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক মিলনমেলা প্রকৃতিই আমাদের ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক: বিশ্ব পরিবেশ দিবসে গাকৃবি ভিসি গাইবান্ধার ঘাঘট লেক জুড়ে কচুরিপানার সবুজ গালিচা ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে জমি চাষ দিতে গিয়ে ট্রাক্টর উল্টে পদ্মা নদীতে ডুবে চালকের মৃত্যু পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে দুই কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঐতিহ্যবাহি হাঁড়িভাঙ্গা আম আগামী ২০ জুন বাজারে আসছে

ঘেরাবেড়া দিতে গিয়ে সংঘর্ষ, পাইকগাছায় আহত-৪

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ৮ নম্বর রাড়ুলী ইউনিয়নের কাঠিপাড়া এলাকায় জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘেরাবেড়া দেওয়ার সময় সংঘর্ষের ঘটনায় একই পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কাঠিপাড়া শ্মশানঘাট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন আলাউদ্দিন গাজী (৬০), তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৪০), ছেলে নাজমুল গাজী (২৫) এবং আত্মীয় জামাল গাজী (৩৫)। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহত আলাউদ্দিন গাজীর কপালে গুরুতর জখম হওয়ায় সেখানে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। একই ঘটনায় তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমের কপালের ক্ষতস্থানে দুইটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। অপর আহত দুজনও চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘেরাবেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে একই পরিবারের চারজন আহত হন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের হামলার কারণেই তারা গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের দাবি, জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর চড়াও হওয়া হয়।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিবাদী পক্ষের ইউনুস গাজী বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য আমিন দিয়ে মাপজোখ করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত সমাধান না হওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
তিনি বলেন, “ঘেরাবেড়া দেওয়ার সময় কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আমরা হাত দিয়ে আঘাত করেছি, তবে তারা যেভাবে জখম হয়েছেন তা আমাদের জানা নেই। ধাক্কাধাক্কির সময় পড়ে গিয়ে এমন হতে পারে।”
তবে প্রতিপক্ষের এই বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, যদি ঘটনাটি শুধুমাত্র ধাক্কাধাক্কির পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলে একই পরিবারের চারজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হলো কেন? বিশেষ করে একজনের কপালে চারটি এবং আরেকজনের কপালে দুইটি সেলাই দেওয়ার মতো আঘাত কীভাবে সৃষ্টি হলো—এ প্রশ্নের উত্তর নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।