দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী এবং সুস্বাদু ও রসালো বেদানাসহ সব ধরনের লিচু বাজারে উঠেছে। চলতি মৌসুমের জেলার সবচেয়ে বড় লিচুর পাইকারি বাজার কালিতলা ও পুলহাটে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে লিচু কেনাবেচার মহোৎসব। জনপ্রিয় বেদানা, বোম্বাই, চায়না-থ্রি ও মাদ্রাজি জাতের লিচু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারগণ মাদ্রাজি, বেদানা, কাঁঠালি, বোম্বাই ও চায়না-থ্রিসহ বিভিন্ন জাতের লিচু ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। ট্রাসহ অন্যান্য পরিবহনে লিচু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১১শত কোটি টাকার লিচু বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় ব্যাপক ফলন ও দেশব্যাপী দিনাজপুরের লিচুর চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কৃষক, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসাহ বিরাজ করছে। এছাড়াও জেলায় কর্মরত সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাগণ ঢাকাসহ অন্যান্য জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য লিচু ক্রয় করার বাগানে ভিড় করছেন। সদর উপজেলার উলিপুর, আউলিযাপুর, মাছিমপুর, সিকদারহাট এবং বিরল উপজেলার ফারাক্কাবাদ, মঙ্গলপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাগান থেকে লিচু সংগ্রহ করে বিশেষ যত্নে ঝুড়িতে প্যাকেটিং করে পাঠানো হচ্ছে। লিচুকে কেন্দ্র করে মৌসুমি শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, প্যাকেজিং কর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। দিনাজপুরের কালিতলা নিউ মার্কেটে আকারভেদে প্রতি ১০০ মাদ্রাজি লিচু ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বেদানা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং চায়না-৩ লিচু ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখানকার উৎপাদিত লিচুর শতকরা ২০ ভাগ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাকি ৮০ ভাগই চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। কালিতলা পাইকারি বাজারের ইজারাদার মো. দবিরুল ইসলাম বলেন, এটি শহরের সবচেয়ে বড় ফলের বাজার, যেখানে দৈনিক ৩ থেকে ৪ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হয়। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মোতাহের হোসেন বলেন, জেলার বেদানা লিচু ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। গত দুই বছর ধরে বেদানা লিচু বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। গত বছর ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় সফলভাবে লিচু পাঠানো হয়েছে। দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, চৈত্র ও বৈশাখ মাসের তীব্র দাবদাহের পর জ্যৈষ্ঠের বৃষ্টিতে গাছে থাকা লিচু রক্ষায় মাঠকর্মীরা চাষিদের পরামর্শ দিয়ে আসছে। দিনাজপুর সদর, বিরল, চিরিরবন্দর, খানসামা, বীরগঞ্জ, ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর, কাহারোল, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, বোচাগঞ্জ, হাকিমপুর ও বিরামপুর উপজেলাসহ জেলার সব উপজেলাতেই কমবেশি লিচুর চাষ হয়েছে। চলতি বছর জেলায় ৭ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১১ হাজার ৫৮০টি গাছে লিচুর চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারদর ভালো থাকায় এ বছর লিচু খাত থেকে প্রায় ১১শত কোটি টাকার অধিক বাণিজ্যের আশা করা হচ্ছে।