June 15, 2026, 4:47 am
শিরোনাম:
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্যে অভিনন্দন দেশবন্ধু রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ সিরাজগঞ্জে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন এমপি আমির হামজা! গাজীপুরে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ফেসবুকে অপপ্রচারের ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি প্রদান বহিরাগত প্রো-ভিসি নিয়োগ প্রত্যাখ্যান: গাকৃবিতে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন, প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ শরীয়তপুরের চন্দ্রপুরের কীর্ত্তীনগর যুব সমাজ কল্যাণ সংগঠন অসহায় প্রতিবন্ধী কুলসুমকে ঘর উপহার দিল: আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কুলসুমের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ টাঙ্গাইলে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত মায়ের মরদেহ আটক করে ছেলেকে কান ধরে উঠবস ‘কালো মানিক’ উপহার দিয়ে আলোচনায় আসা সেই সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তার

পুড়ল টেইলার্স, ছাই হলো ঈদের স্বপ্ন

শাহরিয়ার কবির,পাইকগাছা (খুলনা)

ঈদের বাকি আর মাত্র দুই দিন। যখন চারদিকে উৎসবের আমেজ, ঠিক তখনই এক লহমায় আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল এক শ্রমজীবী মানুষের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন ও শত শত গ্রাহকের ঈদের স্বপ্ন! খুলনার পাইকগাছায় এক টেইলার্স দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত দুই লাখ টাকার মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের ষষ্ঠী তলা বাজারে ঘটা এই দুর্ঘটনাকে কেবল ‘দুর্ঘটনা’ বলে মানতে নারাজ স্থানীয়রা; ঈদের ভরা মৌসুমে এই অগ্নিকাণ্ড কোনো পরিকল্পিত ‘নাশকতা’ কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেইলার্স মালিক মো. আজিজুল রহমান লিটন প্রতিদিনের মতো সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দোকানের লাইট, ফ্যান বন্ধ করে এবং শাটার নামিয়ে বাড়ি চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর, রাত আনুমানিক ১১টার দিকে স্থানীয় এক যুবক দোকানের শাটারের নিচ দিয়ে আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়া বের হতে দেখেন। বিষয়টি টের পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দোকান মালিক লিটনকে মুঠোফোনে খবর দেন।


খবর পেয়ে লিটন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় দোকানের শাটারের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। তবে ততক্ষণে আগুনের তীব্রতায় দোকানের ভেতরে থাকা কাস্টমারদের ঈদের অর্ডার করা বিপুল পরিমাণ শার্ট, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, থান কাপড়, মূল্যবান সেলাই মেশিন এবং ইলেকট্রিক আয়রনসহ সমস্ত মালামাল পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
দোকান মালিক আজিজুল রহমান লিটন জানান, “সামনে ঈদ। ঈদ উপলক্ষে গ্রাহকদের অর্ডার করা অসংখ্য নতুন পোশাক ও দামি কাপড় দোকানে রাখা ছিল। আগুনে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি এখন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে নিঃস্ব হয়ে গেলাম।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আজিজুল রহমান লিটন একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সৎ ব্যবসায়ী। এই টেইলার্স ব্যবসার আয়ের ওপরই তাঁর পুরো পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হতো। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় তাঁর উপার্জনের একমাত্র অবলম্বনটি হারিয়ে যাওয়ায় পরিবারটি এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, দোকানের বৈদ্যুতিক লাইন বা কোনো পয়েন্টে শর্টসার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে ঈদের মৌসুম হওয়ায় এটি কোনো পরিকল্পিত নাশকতা কি না, সেই সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।
এদিকে, এত বড় একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের অবগতই করা হয়নি।
এ বিষয়ে খুলনা হেডকোয়ার্টার ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ফলে তারা ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি এবং আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করতে পারেননি।