প্রেম বুঝে না জাতিকুল, প্রেম বুঝে না কোন পরিস্থিতি। ছিলনা জানা, ছিল না চেনা পোশাক কারখানায় প্রথম পরিচয়। পরে হয় দুলাভাই-শ্যালিকার সম্পর্ক। আর সেই সম্পর্কের সুত্র ধরেই গড়ে উঠে প্রেম। এরপর বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে বসবাস। একপর্যায়ে গর্ভের সন্তানসহ নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন প্রেমিকা। ওই হত্যা মামলায় আসামি মাসুদ মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ ১৮ মে সোমবার দুপুরে রংপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির এ রায় প্রদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের গাজী খাঁ পিত্তিরচড়া-রাজারামপুর সড়কের পশ্চিম পাশে মতিয়ার রহমানের আখক্ষেতে অজ্ঞাতনামা এক নারী ও একটি শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় পীরগঞ্জ থানার এসআই নজরুল ইসলাম মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে র্যাব অভিযান চালিয়ে মাসুদ মিয়াকে গাজীপুরের তারাগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে। আসামি মাসুদ মিয়া আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পুলিশের তদন্তে ওই নারীর পরিচয় বেরিয়ে আসে। তিনি ঢাকার আশুলিয়ার হামিম পোশাক কারখানার শ্রমিক শান্তনা বেগম (৩০)। পোশাক কারখানার শ্রমিক শান্তনা বেগমের বাড়ি বগুড়ায়। জানা যায়, রংপুরের পীরগঞ্জের টুকুরিয়া ইউনিয়নের মোনাইল গ্রামের সাহেব মিয়ার ছেলে মাসুদ মিয়া ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় সান্তনা বেগমের সঙ্গে পরিচয় হয়। প্রথমে দুলাভাই-শ্যালিকার সম্পর্ক তৈরি হলেও পরে তা প্রেমে গড়ায়। একপর্যায়ে তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। সান্তনা বেগম বিয়ের জন্য চাপ দিলে মাসুদ মিয়া কৌশলে তা এড়িয়ে যান। এরই মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা হন সান্তনা বেগম। মাসুদ মিয়া চলে আসেন পীরগঞ্জে। ২০২৩ সালের ১২ জুলাই সান্তনা বেগম পীরগঞ্জে এসে মাসুদ মিয়ার বাড়িতে বিয়ের দাবি জানান। মাসুদ মিয়া বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কৌশলে তাকে খালার বাড়িতে নিয়ে রাত কাটান। পরের দিন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সেখান থেকে ডেকে নিয়ে একটি আখক্ষেতে গলায় পা দিয়ে চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন মাসুদ মিয়া। এরপর পেটে লাথি মারলে মৃত কন্যা সন্তান প্রসব হয়। পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোস্তফা কামাল ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই মাসুদ মিয়াকে দায়ী করে আদালতে চার্জশিট দেন। ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে আদালত মাসুদ মিয়াকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি আফতাব উদ্দিন বলেন, এই মামলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। দ্রুত রায় কার্যকরের উদ্যোগ গ্রহণ দাবি জানান তিনি। আসামিপক্ষের আইনজীবী সুলতান আহমেদ শাহীন বলেন, আমার মক্কেল ন্যায়বিচার পাননি। পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি বিশ্লেষণ করে আপিল করবো।