পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ৭৮ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুল খালেক দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও কোনো সমাধান পাচ্ছিলেন না। ইপিজেড নির্মাণের লক্ষ্যে তাঁর জমি অধিগ্রহণ করা হয় (এলএ কেস নং ০১/২১-২২)। কিন্তু ক্ষতিপূরণ দাবির ক্ষেত্রে উপস্থাপিত দলিলের সঠিকতা নিয়ে আপত্তি ওঠায় বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে পাঠানো হয়।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও যাচাই কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েন এই অসহায় বৃদ্ধ। এক অফিস থেকে আরেক অফিসে ঘুরতে ঘুরতে তিনি প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়েন।
গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বারান্দায় অপেক্ষমাণ অবস্থায় আব্দুল খালেককে দেখতে পান পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। তাঁর কাছে অফিসে আসার কারণ জানতে চাইলে বৃদ্ধ আব্দুল খালেক নিজের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।
বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শোনার পর জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার কাছে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানে বিলম্বের কারণ জানতে চান। দলিল যাচাই সংক্রান্ত প্রতিবেদন দীর্ঘদিন ধরে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ঝুলে আছে জানতে পেরে তিনি জেলা রেজিস্ট্রারকে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
জেলা প্রশাসকের সরাসরি তদারকির ফলে মাত্র ৭ দিনের মধ্যেই দলিলের সঠিকতা যাচাই প্রতিবেদন জমা হয়। পরে ভূমি অধিগ্রহণ শাখা দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করলে আজ ১১ মে ২০২৬ তারিখে বৃদ্ধ আব্দুল খালেকের হাতে ৩৭ লাখ ২১ হাজার ২৫৬ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক।
চেক গ্রহণের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আব্দুল খালেক। অশ্রুসজল চোখে তিনি বলেন,
“বহুদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিলাম। জীবনের শেষ বয়সে এসে আজ একটু স্বস্তি পেলাম।”
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “কোনো সেবাগ্রহীতা যেন হয়রানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন, পটুয়াখালী সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে।”