ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নতুন শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে তেহরান। তবে প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মূল মতবিরোধ এখনও পুরোপুরি মেটেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দুই পক্ষের মধ্যে ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে এবং একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগের দিন তিনি হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে শুরু করা সামরিক অভিযান “প্রজেক্ট ফ্রিডম” স্থগিত করেন।
কী আছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে?
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, দুই পক্ষ ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে ইরান অন্তত ১২ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখা এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।
বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, বিদেশে আটকে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড় এবং ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ- এসব স্পর্শকাতর ইস্যু প্রাথমিক প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
ইরানের অবস্থান কী?
এখনও আনুষ্ঠানিক জবাব না দিলেও ইরানি নেতারা প্রস্তাবটি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য ইবরাহিম রেজায়ি প্রস্তাবটিকে ‘বাস্তবতা বর্জিত মার্কিন স্বেচ্ছাচারি তালিকা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, এই পর্যায়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করছে না; তাদের প্রধান লক্ষ্য যুদ্ধ বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধে রাজি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ তেহরান এটিকে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার হিসেবে দেখে।
হরমুজ ইস্যুই বড় বাধা
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান এখন এই জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে চাইছে এবং নতুন নিয়ম-কানুন আরোপের কথাও বলছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় মিত্ররা কোনও শর্ত ছাড়াই জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে চায়। ফলে এই ইস্যুতে দুই পক্ষের দূরত্ব এখনও অনেক।
তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার বিষয়ে দুই দেশ আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা