May 1, 2026, 1:52 pm
শিরোনাম:
বালাসী–বাহাদুরাবাদ সেতুর দাবিতে গাইবান্ধায় মানববন্ধন, ঢাকার দূরত্ব কমবে ১৫০ কিমি নওগাঁয় ১৪ দফা দাবি ও গণমাধ্যম সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে সাংবাদিকদের শোভাযাত্রা টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস পালিত চৌগাছায় জমজ দুই কন্যাশিশুর পাশে “চৌগাছা পরিবার” মুন্সীগঞ্জে  প্রায় ১ কেটি ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের কষ্টি পাথরের মূর্তি’সহ ০২ জন’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০ ইাউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস্ আ্যসোসিয়েশন (ঊষা) এর উদ্যোগে ১ম মে ২০২৬ বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত শ্রমিকদের ঘামেই গড়ে উঠবে উন্নত সরিষাবাড়ী-এমপি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম কুলাউড়ায় পুলিশ সুপারকে ঘুষ দিতে গিয়ে নারীসহ আটক ২ মহেশপুরে বিশ্ব শ্রমিক দিবস পালিত ও শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আহ্বান – রনি মহান মে দিবস ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আধুনিক যন্ত্রপাতির ছোঁয়ায় কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন: ধান লাগানো ও কাটায় কম্বাইন্ড হারভেস্টারের সাফল্য

আল আমিন মিয়া নকলা (শেরপুর) :

দেশের কৃষিখাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এক সময় যেখানে ধান রোপণ, কাটা ও মাড়াই করতে কৃষকদের দিনরাত পরিশ্রম করতে হতো, এখন সেখানে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারে অল্প সময়ে কম খরচে কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। বিশেষ করে ধান লাগানো ও কাটায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার কৃষকদের কাছে অতিব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
আধুনিক রাইস ট্রান্সপ্লান্টার বা ধান রোপণ যন্ত্র ব্যবহার করে দ্রুত ও সুষমভাবে চারা রোপণ করা যাচ্ছে। এতে শ্রমিক নির্ভরতা কমছে এবং জমিতে সমান দূরত্বে চারা লাগানো সম্ভব হওয়ায় ফলনও বাড়ছে। এক বিঘা জমি ট্রেতে চারা উৎপাদন করে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের মাধ্যমে রোপন করতে সময় লাগে ২০ থেকে ২৫ মিনিট , ১ লিটার ডিজেল একজন শ্রমিক হলেই চলে সে ক্ষেত্রে শ্রমিক দিয়ে রোপন করলে ৫থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয় । রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মাধ্যমে রোপন করলে ১হাজার ২শত টাকা খরচ হয়।
এখনো ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকট চরম আকারে । সময়মতো শ্রমিক না পাওয়ায় ধান নষ্ট হয়ে যায়। এখন বাংলা মার্কের কম্বাইন্ড হারভেস্টার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক বিঘা জমির ধান কেটে, মাড়াই করে বস্তাবন্দি করে দিতে সক্ষম হচ্ছে। বলে জানান জোনাল ম্যানেজার সেলস্ অফিসার মো: সানি মিয়া। এতে সময় যেমন বাঁচছে, তেমনি উৎপাদন খরচও কমছে। এক বিঘা জমি ধান কাটতে সময় লাগে কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে ২০ মিনিট লাগে খরচ হয় মাত্র ১২শত থেকে ১৩ শত, শ্রমিক দ্বারা ধান কাটতে ব্যায় হয় ৫থেকে ৬ হাজার টাকা ।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সরকার কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে। ফলে গ্রামের কৃষকরা প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন এবং কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খোলেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই করতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দেশের খাদ্য উৎপাদনে আরও বড় সাফল্য আসবে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগে যন্ত্রপাতির ব্যবহার কম থাকায় বোরো আবাদে কৃষকদের লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে থাকতে হতো। বিশেষ করে হাওড় অঞ্চলে সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারায় অনেক সময় মাঠের ফসল মাঠেই নষ্ট হয়ে যেত, বন্যার পানিতে তলিয়ে যেত বিস্তীর্ণ জমির ধান।