গাইবান্ধার বাদিয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দিনব্যাপী নানা আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এলাকায় শিক্ষার মান ও সুনামের জন্য সুপরিচিত। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে ৬০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে এবং শিক্ষক সংখ্যা ১৫ জন। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১০২ জন শিক্ষার্থী। গত বছর বিদ্যালয়টির পাশের হার ছিল ৭৫ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষিকা মোছা. আফিয়া আক্তার রূপকের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক শাহজালাল হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সহকারী প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র বর্মন, শিক্ষক তাপস চন্দ্র সরকারসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
সমাপনী বক্তব্যে প্রধান শিক্ষিকা মোছা. আফিয়া আক্তার রূপক বলেন, এসএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে তোমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। আমাদের বিদ্যালয় শিক্ষার মান ধরে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে, তবে অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ে বাউন্ডারি প্রাচীর না থাকা, মাঠে মাটি ভরাটের প্রয়োজনীয়তা এবং দীর্ঘদিনের শ্রেণিকক্ষ সংকট শিক্ষার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরকার যদি একটি নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ করে দেয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নিশ্চিত হবে এবং শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।
সহকারী প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র বর্মন বলেন, নিয়মিত পড়াশোনা ও সময়ের সঠিক ব্যবহারই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
শিক্ষক তাপস চন্দ্র সরকার বলেন, বিদায় মানেই শেষ নয়; বরং এটি নতুন পথচলার সূচনা। সততা, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ই জীবনে সফলতা এনে দেয়।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কেল, কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। শেষে তাদের সফলতা কামনায় দোয়া ও শুভকামনা জানানো হয়।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাবে পাঠদান কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত বাউন্ডারি প্রাচীর নির্মাণ, মাঠে মাটি ভরাট এবং নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।