July 29, 2026, 5:39 pm
শিরোনাম:
গঙ্গাচড়ায় গর্তে রাস্তার বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি গাইবান্ধায় আড়াই বছর ধরে আটকে রয়েছে ৭টি সেতুর কাজ, ৪টি সেতুর কাজ শুরু হয়নি রামগতিতে পানির লাইন খুঁড়তে মিলল তিনটি মর্টার শেল সদৃশ বস্তু নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩ এর উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সুধী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে “নাগরিক ভাবনাঃ আমাদের করণীয়” শীর্ষক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী মাদকবিরোধী অভিযানে কৃতিত্বের স্বীকৃতি, সম্মানিত রাঙ্গামাটি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আলমগীর শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আটক ৩ জাপানে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

আমেরিকাকে শেষ পর্যন্ত ছাড়তে হবে মধ্যপ্রাচ্য

নিউজ পাওয়ার ২৪ ডেস্ক:

ইরানের ইস্পাহান প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় টানা দুই দিন ধরে চলা এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর অবশেষে মার্কিন নিখোঁজ কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রবিবার অত্যন্ত ঘটা করে এই সাফল্যের ঘোষণা দিলেও দৃশ্যপটের আড়ালে থাকা ক্ষয়ক্ষতির চিত্রটি ওয়াশিংটনকে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। একটি মাত্র জীবন বাঁচাতে গিয়ে আমেরিকাকে যেভাবে একাধিক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার হারাতে হয়েছে, তাতে এই অভিযানের প্রকৃত সার্থকতা নিয়ে খোদ সামরিক মহলেই প্রশ্ন উঠছে।

গত ৩ এপ্রিল ইরানের শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মাধ্যমেই এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। বিমানে থাকা দুই ক্রুর মধ্যে পাইলট দ্রুত উদ্ধার পেলেও তার সহযোগী অস্ত্র কর্মকর্তা নিখোঁজ হয়ে যান। তাকে উদ্ধারের জন্য ইরান ভূখণ্ডের প্রায় ২৫ কিলোমিটার ভেতরে একটি পরিত্যক্ত কৃষি জমিতে অস্থায়ী রানওয়ে বানিয়ে কমান্ডো অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই উদ্ধার অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছিল এমসি-১৩০জে কমান্ডো পরিবহন বিমান এবং এমএইচ-৬এম লিটল বার্ড হেলিকপ্টার।

সরকারি ভাষ্যমতে উদ্ধার অভিযানটি সফল হলেও এর বিনিময় মূল্য ছিল চড়া। কর্দমাক্ত ভূমিতে পরিবহন বিমানগুলো আটকে যাওয়ায় এবং ইরানি বাহিনীর ক্রমাগত আক্রমণের মুখে মার্কিন বাহিনীকে তাদের নিজস্ব দুটি এমসি-১৩০জে বিমান এবং চারটি হেলিকপ্টার ধ্বংস করে রেখে আসতে হয়েছে। এছাড়াও অভিযান চলাকালীন ইরানের গোলায় একটি এ-১০সি থান্ডারবোল্ট অ্যাটাক এয়ারক্রাফট এবং দুটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও পেন্টাগন দাবি করছে যে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্রের এই বিনাশ মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর এক বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই অভিযানের প্রকৃতি নিয়ে ইতিমধ্যে নানা বিতর্ক ডালপালা মেলছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, কেবল একজন পাইলটকে উদ্ধারের জন্য এত বড় ঝুঁকি নেওয়া অস্বাভাবিক। গুঞ্জন উঠেছে যে, মার্কিন বাহিনীর আসল লক্ষ্য ছিল কাছাকাছি থাকা ইরানের একটি পরমাণু স্থাপনা থেকে ইউরেনিয়াম জব্দ করা অথবা কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বন্দি করা। যদি সেটিই হয়ে থাকে, তবে ইস্পাহানের এই অভিযানকে ১৯৮০ সালের ব্যর্থ ‘অপারেশন ঈগল ক্ল’-এর আধুনিক সংস্করণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে, যেখানে জিম্মি উদ্ধারে গিয়ে মরুভূমিতে সরঞ্জাম ফেলে পালিয়েছিল মার্কিন সেনারা।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা ১৯৯৩ সালের সোমালিয়ার মোগাদিশু যুদ্ধের স্মৃতিকেও ফিরিয়ে আনছে। সে সময় মার্কিন বাহিনী তাদের লক্ষ্য অর্জন করলেও বিনিময়ে ১৮ জন সৈন্য এবং একাধিক ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার হারিয়েছিল। মোগাদিশুর সেই রক্তক্ষয়ী লড়াই যেমন আমেরিকার সোমালিয়া নীতি বদলে দিয়েছিল, ইস্পাহানের এই ‘ব্যয়বহুল সাফল্য’ একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের ভবিষ্যৎ গতিপথ পাল্টে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি সীমিত লক্ষ্য অর্জনে এত বড় ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ইরান এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় যেকোনো অনুপ্রবেশের ফল হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। আকাশপথে আধিপত্য বজায় রাখা এখন আর ওয়াশিংটনের জন্য সহজ কোনো কাজ নয়। যদি প্রতিটি ছোটখাটো অভিযানের জন্য মার্কিন বাহিনীকে ডজনখানেক বিমান ও ড্রোন হারাতে হয়, তবে ইসরায়েল বা আমেরিকার পক্ষে ইরানের গভীরে কোনো স্থায়ী সামরিক অভিযান চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। ইস্পাহানের পাহাড়ের পাদদেশে পড়ে থাকা মার্কিন বিমানের পোড়া অবশিষ্টাংশগুলো ইরানের সামরিক শক্তিমত্তার এক নীরব প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এক কঠিন দ্বিমুখী সংকটে দাঁড়িয়ে আছেন। একদিকে তার সামনে বিকল্প রয়েছে ইরানকে ‘পাথর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করা, যার পরিণতি হতে পারে অকল্পনীয়। অন্যদিকে, তিনি বিল ক্লিনটনের মতো পিছু হটার পথ বেছে নিতে পারেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রভাবকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দেবে এবং ইরানকে ওই অঞ্চলের একচ্ছত্র শক্তিতে পরিণত করবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো পথই আমেরিকার জন্য মসৃণ বলে মনে হচ্ছে না।

শেষ পর্যন্ত ইস্পাহান অভিযানের এই কাহিনী আমেরিকার সামরিক ইতিহাসে কেবল একটি উদ্ধার অভিযান হিসেবে নয় বরং একটি কৌশলগত পরাজয় হিসেবেও চিহ্নিত হতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে পাইলটকে ফিরে পাওয়া গেলেও ওয়াশিংটনকে যে বিশাল কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক মাশুল দিতে হয়েছে, তা তাদের ইরান নীতির সীমাবদ্ধতাকেই প্রকট করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউস এই ধাক্কা সামলে নতুন কোনো রণকৌশল সাজায় নাকি পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে ওই অঞ্চল থেকে তাদের গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে।

সূত্র: আরটি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *