June 19, 2026, 7:58 am
শিরোনাম:
টঙ্গীতে সুন্দরীর ফাঁদে ফেলে চাঁদাবাজি: হানিট্র্যাপ চক্রের ২ নারীসহ ৩ সদস্য গ্রেফতার সর্বস্তরে বাংলা ভাষা শুদ্ধ বানানে ও শুদ্ধ উচ্চারণে কর্মশালা অনুষ্ঠিত পটিয়া গাউছিয়া তাহেরীয়া সুন্নীয়া মাদ্রাসা উদ্যোগে শোহাদায়ে কারবালা মাহফিল ড. মো. মন্জুরুল কাদির বারি’র নতুন মহাপরিচালক সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি পেলেন মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন নরসিংদীর শিবপুরে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এর সহকারী প্রধান শিক্ষকের মৃতদেহ উদ্ধার টাঙ্গাইলের সাবেক মন্ত্রীর পুত্র ড. জগলুর রহমান খানের কুলখানি অনুষ্ঠিত মধ্যযুগীয় কায়দায় বাড়ির গৃহকর্মীকে শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতন,খুলনায় পুলিশ দম্পতির বিরুদ্ধে ফুলছড়িতে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন পালিয়ে বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিষপান, খুলনায় হাসপাতালে নবদম্পতি

প্রতিদিন দুর্ঘটনা, দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ

এ, কে, এম, মুজিবুর রহমান নবীনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া, থেকে:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কোনাঘাট থেকে শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা অংশ ও ধুলাবালির কারণে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই সড়কটি শুধু শ্যামগ্রামের শিক্ষার্থী ও রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়; নবীনগর থেকে বাঞ্ছারামপুর কড়ইকান্দি ফেরিঘাট হয়ে রাজধানী ঢাকায় চলাচলের একমাত্র পথ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করে ব্যবসা, চাকরি ও অন্যান্য প্রয়োজনে রাজধানী যাতায়াত করেন।
কোনাঘাট মোড় থেকে শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়কের বেশির ভাগ অংশই এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কয়েক বছর আগে কোনাঘাট থেকে শ্যামগ্রাম মোড় পর্যন্ত অংশে কার্পেটিং করা হলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে।
শ্যামগ্রাম কাঠালবাগান সংলগ্ন ব্রিজ, বাজারের সামনের ব্রিজ এবং শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সামনের ব্রিজের ওঠার অংশ নাজুক হয়ে পড়েছে। এসব স্থানে প্রায়ই যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি উড়তে থাকে, যা পথচারীদের শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

রসুল্লাবাদ এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, “আমি স্ট্রোকের রোগী। চিকিৎসার জন্য নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। কিন্তু রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে অনেক সময় নিয়মিত চেকআপ করানো সম্ভব হয় না।”

সিএনজি চালক সোহেল মিয়া বলেন, “গর্ত ও ভাঙা ব্রিজের ওঠার অংশগুলোয় গাড়ি চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। দ্রুত মেরামতের প্রয়োজন।”

স্থানীয় সমাজসেবক শফিকুল ইসলাম বলেন, “এই সড়কটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। আবার হাজার হাজার রোগী নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যায়। এছাড়া লোকজন ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলায় যাতায়াত করে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা জরুরি।”

শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোস্তাক আহাম্মদ বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে আসে। সড়কটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বড়ই হুমকির মুখে। সরকারি তৎপরতা এবং দ্রুত সংস্কারের কাজ খুবই জরুরি।”

নবীনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাহবুব হোসেন বলেন, “সড়কটির বেশির ভাগ অংশের অবস্থা খুবই খারাপ। ইতোমধ্যেই সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকার থেকে বরাদ্দ পাওয়া মাত্র কাজ শুরু হবে। স্থানীয়দের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই সড়কটি নবীনগরের পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের প্রধান পথ। দ্রুত সংস্কার না হলে জনদূর্ঘটনা, আর্থ-সামাজিক ক্ষতি এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।