খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ধান ক্ষেতে পেতে রাখা অবৈধ বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লতিকা বৈদ্য (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত লতিকা বৈদ্য স্থানীয় বাসিন্দা বরুণ বৈদ্যের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের নিরুদ রায় ধান ক্ষেতে ইঁদুর দমনের উদ্দেশ্যে পাশের বাড়ি থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে তারের ফাঁদ পেতে রেখেছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় লতিকা নিখোঁজ হন। স্বজনরা রাতভর খোঁজাখুঁজি করলেও তাঁর সন্ধান পাননি। রোববার ভোরে নিরুদ রায়ের ধান ক্ষেতে তাঁর মরদেহ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফসল রক্ষার নামে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ফাঁদ পাতা একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
কয়রা উপজেলায় ফসল রক্ষার্থে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে প্রাণহানির ঘটনা ক্রমেই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত বছর দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছিল এমন বৈদ্যুতিক ফাঁদে।
মানবাধিকার কর্মী ও স্থানীয় সাংবাদিক তারিকুল ইসলাম বলেন, ফসল বাঁচাতে গিয়ে মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত শাহ আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।