July 30, 2026, 7:20 pm
শিরোনাম:
মানব পাচারকারীদের রুখতে সারা দেশে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে ফেসবুকে প্রচারিত অভিযোগের প্রতিবাদে জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সংবাদ সম্মেলন নেত্রকোণায় ৩০ লাখ টাকার ফেনসিডিল উদ্ধার, আটক ২ পরিবেশ রক্ষায় শরীয়তপুরে কচি কণ্ঠের আসরের বৃক্ষরোপণ ইরানের ডজনখানেক স্থাপনায় হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের ফরিদপুরে ১০ বছর আগে সৎ মা, এবং ১০ পরে আপন মাকে খুন করলো ছেলে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ বগুড়ায় মডার্ন ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ক্লিনিক কে জরিমানা ভূয়া চিকিৎসক আটক রামগতিতে বসতবাড়ির পথ বন্ধের সংবাদ ভিত্তিহীন দাবি অভিযুক্তদের মানুষের আস্থার নাম সফিকুর রহমান কিরণ এমপি: উন্নয়ন, জনসেবা ও মানবিক রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত

গাইবান্ধায় আমের মুকুলে হলুদের সমারোহ, সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

‎মো. মাহমুদুল হাবিব রিপন, গাইবান্ধা থেকে:

উত্তরের জনপদ গাইবান্ধা জেলা জুড়ে এখন বসন্তের আবহ। ডালেপালায় সোনালি-সবুজ মুকুলে ছেয়ে গেছে আমগাছ। গ্রামের আঙিনা, কাঁচা-পাকা সড়ক, পুকুরপাড় ও বসতবাড়ির চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে মৌ-মৌ মিষ্টি ঘ্রাণ। মুকুলে ভরা গাছে মৌমাছির ব্যস্ত আনাগোনা প্রকৃতি যেন নিজেই রচনা করছে সম্ভাবনার নতুন গল্প।

‎গাইবান্ধায় ঐতিহ্যগতভাবে বড় আকারের বাণিজ্যিক আমবাগান কম থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে। সদর উপজেলার পাশাপাশি পলাশবাড়ী উপজেলা, সাদুল্লাপুর উপজেলা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা-র বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠছে ছোট-বড় আমবাগান। বিশেষ করে কাটাবাড়ি ইউনিয়ন-এ উচ্চফলনশীল জাতের আম চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে।
‎গোবিন্দগঞ্জের আমচাষি আবু জাফর জানান, কয়েক বছর আগে এক বিঘা জমিতে আমের বাগান শুরু করেন তিনি। প্রথমদিকে তেমন লাভ না হলেও গত বছর থেকে ফলন ও আয় দুই-ই বেড়েছে। এ বছর গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।
‎অন্যদিকে পলাশবাড়ীর তরুণ উদ্যোক্তা উজ্জ্বল মিয়া তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ফাঁকা জায়গায় চার বছর আগে ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’ জাতের চারা রোপণ করেন। চলতি মৌসুমে গাছে আগের তুলনায় বেশি ফুল এসেছে। তিনি মনে করেন, সঠিক পরিচর্যা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে গাইবান্ধাও উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনাময় আম উৎপাদন অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।
‎গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান বলেন, গাইবান্ধার মাটি ও জলবায়ু আম চাষের জন্য ক্রমেই উপযোগী হয়ে উঠছে। বর্তমানে এখানে ল্যাংড়া আম, ফজলি আম, হিমসাগর আম এবং আম্রপালি আম জাতের আম চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, সময়মতো পরিচর্যা ও রোগবালাই দমন করা গেলে ফলন ভালো হয়।
‎এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল রশীদ বলেন, আমে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখা এবং ত্বকের সুরক্ষায় সহায়ক। কৃষি বিভাগ নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে চাষিদের সহযোগিতা করছে।
‎গাইবান্ধায় এখনো বৃহৎ শিল্পভিত্তিক আম উৎপাদন গড়ে না উঠলেও বাড়ির আঙিনা ও ছোট পরিসরের বাগানগুলো মিলিয়ে এক নীরব বিপ্লব ঘটছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কার্যকর বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে গাইবান্ধা উত্তরবঙ্গের একটি সম্ভাবনাময় আম উৎপাদন জেলায় রূপ নিতে পারে।
‎হলুদ মুকুলে ভরা আমগাছ তাই আজ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয় এটি কৃষকের স্বপ্ন, সম্ভাবনার প্রতীক এবং গাইবান্ধার অর্থনীতির নতুন দিগন্তের বার্তা বহন করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *