গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়ন-এর উত্তর খোলাবাড়ি গ্রামে ঘাঘট নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন সময়ে প্রভাবশালী মহল ও কিছু রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি দলের নাম ভাঙিয়ে নদীর পাড় থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছর ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ধারাবাহিকভাবে নদীর তীর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বেপরোয়া মাটি উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, দিনে শ্রমিক দিয়ে প্রকাশ্যে নদীর পাড় কাটা হয়। আর রাতের বেলায় ভেকু (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে ব্যাপক আকারে মাটি উত্তোলন করা হয়। ট্রাক্টর, কাকড়া গাড়ি ও অন্যান্য ভারী যানবাহনে করে গভীর রাতে বিপুল পরিমাণ মাটি বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও তারা জানান।
প্রতিবাদ করলে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখা হলেও কিছুক্ষণ পর আবার আগের মতো কার্যক্রম শুরু হয় বলে অভিযোগ। জীবননাশের হুমকি পাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে অনিচ্ছুক বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর পাড় থেকে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করলে নদীভাঙন ত্বরান্বিত হয়। এতে কৃষিজমি ও বসতভিটা ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন-
প্রশাসন কি বিষয়টি দেখেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না?
কার ছত্রছায়ায় চলছে এ কার্যক্রম?
কেন বন্ধ করা হচ্ছে না অবৈধ মাটি কাটা?
সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে ব্যবহৃত ভেকু ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নদী রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি।
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে নদী ও জনস্বার্থ রক্ষা করবে, নাকি প্রভাবশালীদের ছায়ায় পরিবেশ ধ্বংসের এই অভিযোগিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।