July 31, 2026, 6:52 am
শিরোনাম:
পাকিস্তানে কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, বাড়ছে লাশের পরিমান প্রশাসনিক স্থবিরতায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রোগীরা, অনিয়মের পাহাড় ভুলে স্বাক্ষর না করায় বেরোবিতে ভর্তির সুযোগ বঞ্চিত এক শিক্ষার্থী বাংলাদেশসহ ১৪ দেশকে নিয়ে সৌদির নতুন সমুদ্রকেন্দ্রিক সামরিক জোট ঘোষণা মানব পাচারকারীদের রুখতে সারা দেশে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে ফেসবুকে প্রচারিত অভিযোগের প্রতিবাদে জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সংবাদ সম্মেলন নেত্রকোণায় ৩০ লাখ টাকার ফেনসিডিল উদ্ধার, আটক ২ পরিবেশ রক্ষায় শরীয়তপুরে কচি কণ্ঠের আসরের বৃক্ষরোপণ ইরানের ডজনখানেক স্থাপনায় হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের ফরিদপুরে ১০ বছর আগে সৎ মা, এবং ১০ পরে আপন মাকে খুন করলো ছেলে

পাকিস্তানে কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, বাড়ছে লাশের পরিমান

নিউজ পাওয়ার ২৪ ডেস্ক:

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ৩২ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার কাছে অবস্থিত এক দুর্গম খনিতে জমে থাকা বিষাক্ত মিথেন গ্যাস থেকে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া অবশিষ্ট শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের আশা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার কোয়েটা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) পূর্বে অবস্থিত সোরঙ্গে এলাকার একটি কয়লাখনিতে এই আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের মাত্রা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এতে আশেপাশের পাশাপাশি দুটি খনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর থেকেই উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

উদ্ধারকাজ ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে শুক্রবার প্রত্যুষে প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, তারা এ পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থল থেকে ২৯টি মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। এ ছাড়া খনির ভেতরের দিকে আরও তিনটি মরদেহের অবস্থান চিহ্নিত করা গেছে এবং সেগুলো বের করে আনার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত খনিটিতে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর কর্মীরা প্রায় ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বর্তমানে সেখানে কাউকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

প্রদেশের প্রধান খনি পরিদর্শক মুহাম্মদ আতিফ জানিয়েছেন, ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের সময় খনির ভেতরে মোট ৩৬ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে এ অঞ্চলের সরকারের অপর এক জ্যেষ্ঠ খনি কর্মকর্তা আব্দুল গনি বেলুচ নিশ্চিত করেছেন যে, বিস্ফোরণের প্রচণ্ড ধাক্কায় পাশাপাশি দুটি খনি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়েছে।

পাকিস্তানে, বিশেষ করে বেলুচিস্তান প্রদেশের কয়লাখনিগুলোতে পর্যাপ্ত বায়ুপাতা ব্যবস্থা (ভেন্টিলেশন) এবং গ্যাস পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মতো মৌলিক সুরক্ষা উপকরণের চরম অভাব রয়েছে। ফলে সেখানে প্রায়ই এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। দীর্ঘদিন ধরেই খনিশ্রমিক এবং স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনগুলো অভিযোগ করে আসছে যে, খনি মালিকরা ন্যূনতম সুরক্ষা বিধিমালা মেনে চলেন না এবং শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করতে ব্যর্থ হন।

চরম জীবনের ঝুঁকি ও কম মজুরি থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার দরিদ্র মানুষ এই বিপজ্জনক কয়লাখনি শিল্পনির্ভর জীবিকার ওপর বেঁচে আছেন। উল্লেখ্য, আয়তনের দিক থেকে বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সর্ববৃহৎ প্রদেশ হলেও এটি দেশের সবচেয়ে অনুন্নত অঞ্চলগুলোর একটি, যেখানে চরম দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বহু মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবেই এমন ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় ঠেলে দেয়।

সূত্র: আল জাজিরা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *