July 31, 2026, 6:43 am
শিরোনাম:
পাকিস্তানে কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, বাড়ছে লাশের পরিমান প্রশাসনিক স্থবিরতায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রোগীরা, অনিয়মের পাহাড় ভুলে স্বাক্ষর না করায় বেরোবিতে ভর্তির সুযোগ বঞ্চিত এক শিক্ষার্থী বাংলাদেশসহ ১৪ দেশকে নিয়ে সৌদির নতুন সমুদ্রকেন্দ্রিক সামরিক জোট ঘোষণা মানব পাচারকারীদের রুখতে সারা দেশে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে ফেসবুকে প্রচারিত অভিযোগের প্রতিবাদে জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সংবাদ সম্মেলন নেত্রকোণায় ৩০ লাখ টাকার ফেনসিডিল উদ্ধার, আটক ২ পরিবেশ রক্ষায় শরীয়তপুরে কচি কণ্ঠের আসরের বৃক্ষরোপণ ইরানের ডজনখানেক স্থাপনায় হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের ফরিদপুরে ১০ বছর আগে সৎ মা, এবং ১০ পরে আপন মাকে খুন করলো ছেলে

ভুলে স্বাক্ষর না করায় বেরোবিতে ভর্তির সুযোগ বঞ্চিত এক শিক্ষার্থী

এস,এম শাহাদৎ হোসাইন, রংপুর

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) অপেক্ষমাণ তালিকায় প্রথম অবস্থানে থেকেও ভুলে স্বাক্ষর না কারণে ভর্তির সুযোগ হারিয়েছেন ইনসানা আখতার নামে এক শিক্ষার্থী। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রমের শূন্য আসনে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির আওতায় জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী ইনসানা আখতার বাণিজ্য (বি) ইউনিটের অধীনে একই সঙ্গে দুটি বিভাগে সাক্ষাৎকারের জন্য মনোনীত হন। তবে উপস্থিতি শিটে তিনি একটি বিভাগের তালিকায় একবার স্বাক্ষর করেন। পরে অন্য বিভাগের তালিকায় স্বাক্ষর না থাকায় তাকে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য করা হয়। বেরোবি সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই প্রকাশিত শূন্য আসনের সাক্ষাৎকার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মোট আটটি শূন্য আসনের বিপরীতে ৫০ জন শিক্ষার্থীকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগে দুটি আসনের বিপরীতে ১০ জন এবং জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে একটি আসনের বিপরীতে পাঁচজনকে ডাকা হয়।‘বি’ ইউনিটে জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একটি আসনের বিপরীতে পাঁচজন এবং ‘সি’ ইউনিটে একই বিভাগের তিনটি আসনের বিপরীতে ১৫ জনকে ডাকা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একটি আসনের বিপরীতে পাঁচজন শিক্ষার্থীকে সাক্ষাৎকারের জন্য মনোনীত করা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইনসানা আখতার বলেন, ভর্তি কার্যক্রমে অংশ নিতে এসে আমাদের একটি উপস্থিতি শিট দেওয়া হয়। সেখানে সবাই স্বাক্ষর করেন। কিন্তু যাদের একাধিক বিভাগে নাম এসেছে, তাদের আলাদা আলাদা উপস্থিতি শিটে স্বাক্ষর করতে হবে, এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আমি শুধু একটি শিটেই স্বাক্ষর করি। পরে জানতে পারি, প্রতিটি বিভাগের জন্য পৃথক উপস্থিতি শিটে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক ছিল। ইনসানা আখতার আরও বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে একটি আসনের বিপরীতে আমার মেধাক্রম ছিল পঞ্চম। অন্যদিকে জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের তিনটি শূন্য আসনের বিপরীতে আমি ওয়েটিং তালিকায় প্রথম ছিলাম। প্রথম যে তালিকাটি সামনে পেয়েছি, সেখানেই স্বাক্ষর করেছি। পরে দেখি আমাকে কোনো বিভাগ দেওয়া হয়নি। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে বলেছিলাম, আলাদা আলাদা শিটে স্বাক্ষর করতে হবে, সেটি তো আগে বলা হয়নি। আমার বাসা রংপুর হওয়ার কারণে গুচ্ছভুক্ত অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দক্রম (চয়েস) দিইনি। বেরোবিতে ভর্তির আশায় অন্য কোনো গুচ্ছভুক্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দক্রম না দেওয়ায় বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী আর কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন না। এতে ভর্তির সুযোগ হারিয়ে তিনি চরম হতাশায় ভুগছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবছর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে কিছু আসন শূন্য থেকে যায়। মানবিক দিক বিবেচনায় প্রশাসন চাইলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারতো। গত ৩০ জুলাই ভর্তি কমিটির সদস্য ও জীব ও ভ‚-বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা উপস্থিতি তালিকা ছিল এবং সেভাবেই সাক্ষর নেওয়া হয়েছে। যেহেতু তিনি সংশ্লিষ্ট তালিকায় স্বাক্ষর করেননি। ফলে তাকে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান বলেন, এ বিষয়ে ডিনগণ ভালো বলতে পারবেন। কারণ ভর্তি কার্যক্রমে তারাই দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভাগে আসনও খালি থাকতে হবে। ওই শিক্ষার্থী লিখিত আবেদন করলে বিষয়টি ডিন ও উপাচার্য মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *