July 29, 2026, 4:54 pm
শিরোনাম:
গঙ্গাচড়ায় গর্তে রাস্তার বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি গাইবান্ধায় আড়াই বছর ধরে আটকে রয়েছে ৭টি সেতুর কাজ, ৪টি সেতুর কাজ শুরু হয়নি রামগতিতে পানির লাইন খুঁড়তে মিলল তিনটি মর্টার শেল সদৃশ বস্তু নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩ এর উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সুধী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে “নাগরিক ভাবনাঃ আমাদের করণীয়” শীর্ষক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী মাদকবিরোধী অভিযানে কৃতিত্বের স্বীকৃতি, সম্মানিত রাঙ্গামাটি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আলমগীর শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আটক ৩ জাপানে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

রংপুরে দু’টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজ ৪ বছরেও শেষ হয়নি

এস, এম শাহাদৎ হোসাইন, রংপুর

প্রকল্পের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। তিন বছরের কাজ চার বছরেও শেষ না হওয়াতে এই প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। নির্মাণাধীন দুটি বিদ্যালয়ের মধ্যে একটির কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও অন্যটি শেষ করতে আরও বছরখানেক সময় পেরিয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রংপুরে দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাস হয় ২০১৮ সালে। রংপুর নগরীর উত্তম মৌজার হাজীপাড়া পুরোনো রেডিও সেন্টারে ও কামাল কাছনা মৌজার বোতলায় বিদ্যালয় দুটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ২০২১ সালের আগস্টে ভূমি অধিগ্রহণ ও দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ শেষে করা হয়। ২০২২ সালের মার্চে কার্যাদেশ দেওয়া হয় এসএসএল-এসই-এমএ জেভি নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। ওই বছরের ২৩ আগস্ট থেকে শুরু হয় নির্মাণকাজ। ২৩ কোটি ১০ লক্ষ ৮ হাজার ৪৩২ টাকা করে ব্যয়ে ১০ তলা ভবন বিশিষ্ট বিদ্যালয় দুটির কাজ শুরুর দিন থেকে তিন বছরে (৩৬ মাস) শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চার বছরেও শেষ হয়নি। নগরীর পুরোনো রেডিও সেন্টার এলাকায় বিদ্যালয়ের মূল ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামোর কাজ এখনো অসমাপ্ত। ভবনের প্লাস্টার, রঙ ও জানালার গ্রিল লাগানোর কাজও বাকি। কামাল কাছনা মৌজার বোতলাপাড়ায় নির্মাণকাজ শেষ হলেও রঙ ও অন্যান্য কাজ এখনো শেষ হয়নি। নগরীর হাজীপাড়া চামড়াপট্টি এলাকার গৃহিনী আইরিন আক্তার বলেন, আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বেসরকারি স্কুলে বেতন দিয়ে সন্তানদের পড়ালেখা করানো কষ্টকর। রংপুরে সরকারি একটি বালিকা ও একটি বালক মাধ্যমিক বিদ্যালয় রযেছে। যেখানে আসন সংখ্যাও সীমিত। প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয় কিন্তু সবার আশা পূরণ হয় না। শত শত অভিভাবক চান, রংপুরে যে দুটি বিদ্যালয় হওয়ার খবর আমরা শুনেছি তা যেন দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়। মেডিকেল মোড় জেলগেট সংলগ্ন এলাকার হামিদা আফরোজ বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের আসন সংকট দূরীকরণের লক্ষ্যে সরকার দুটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। বাচ্চাকে সরকারি স্কুলে পড়ানোর ইচ্ছে ছিল। কিন্তু নতুন দুটি স্কুল চালু না হওয়ায় সেই ইচ্ছা আর পূরণ হলো না। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে যেন বিদ্যালয় দুটিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়। রংপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষক বলেন, রংপুরে সরকারি স্কুলে ভর্তির জন্য প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতা করে। নতুন এই দুটি স্কুল চালু হলে আসন সংকট অনেকটাই কেটে যেত। কিন্তু সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় আগামী শিক্ষাবর্ষেও স্কুল দুটিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো সম্ভব হবে না। বেতারপাড়া স্কুলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদ বলেন, ঠিকমতো কাজ করলে আরও ছয়মাস সময় লাগবে। কাজের বিলম্বের কথা স্বীকার করে রংপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রতীশ চন্দ্র সেন বলেন, করোনা মহামারী পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মালামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সময়মতো কাজ শেষ করতে পারেনি। বোতলাপাড়ার স্কুলটি আগামী অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কাজ শেষ হলে নিয়োগকৃত প্রধান শিক্ষকের কাছে ভবন হস্তান্তর করা হবে। আর অন্যটির কাজ শেষ হতে আরও বছরখানেক সময় লাগতে পারে। সময় বাড়লেও নির্মাণ ব্যয় বাড়বে না জানিয়ে রতীশ চন্দ্র সেন আরও বলেন, কাজ শেষে প্রধান শিক্ষকের কাছে ভবন হস্তান্তর পর্যন্ত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্ব। শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *