July 29, 2026, 4:54 pm
শিরোনাম:
গঙ্গাচড়ায় গর্তে রাস্তার বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি গাইবান্ধায় আড়াই বছর ধরে আটকে রয়েছে ৭টি সেতুর কাজ, ৪টি সেতুর কাজ শুরু হয়নি রামগতিতে পানির লাইন খুঁড়তে মিলল তিনটি মর্টার শেল সদৃশ বস্তু নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩ এর উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সুধী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে “নাগরিক ভাবনাঃ আমাদের করণীয়” শীর্ষক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী মাদকবিরোধী অভিযানে কৃতিত্বের স্বীকৃতি, সম্মানিত রাঙ্গামাটি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আলমগীর শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আটক ৩ জাপানে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

গাইবান্ধায় নদী ভাঙনে সাত শতাধিক পরিবার গৃহহীন

এস, এম শাহাদৎ হোসাইন, রংপুর

বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকে গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট, তিস্তা ও করতোয়া নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে প্রতি বছরই বদলে যাচ্ছে জেলার চার উপজেলার নদীর তীরবর্তী এলাকার চিত্র। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা। নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে জেলার সাত শতাধিক পরিবার পরিজন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে চরাঞ্চলের একের পর এক গ্রাম হারিয়ে যাচ্ছে। ভাঙন রোধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বর্ষা মৌসুমে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর ভাঙনে ৭ শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুর, ফজলুপুর ইউনিয়নের চৌমহন চর, খাটিয়ামারি, দক্ষিণ খাটিয়ামারি ও কাউয়াবাদা, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর; সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাশিয়া ইউনিয়নের লালচামার ও কেরানীর চর, কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী এবং সদর ও সাঘাটা উপজেলার কয়েকটি এলাকা রয়েছে। কেউ আশ্রয়ণকেন্দ্রে, আবার কেউ জীবিকার তাগিদে অন্যত্র চলে গেছেন। নদীর করাল গ্রাসে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে পরিবারগুলো। বছরের পর বছর ধরে ভাঙনের শিকার হলেও এখনো কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। গাইবান্ধার সাত উপজেলার মধ্যে চারটি নদীবেষ্টিত। জেলায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা, ঘাঘট ও করতোয়া নদীতীরবর্তী এলাকায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় প্রায় ৬৭ কিলোমিটার বাঁধ বিস্তৃত। সরেজমিনে দেখা যায়, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুর এলাকা বিলীনের পথে। এছাড়া ফজলুপুর ইউনিয়নের চৌমহন চর, খাটিয়ামারি, দক্ষিণ খাটিয়ামারি, কাউয়াবাদা ও উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুরেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাশিয়া ইউনিয়নের লালচামার এলাকায় গত পাঁচ দিনে শতাধিক বসতবাড়ি ও দুই শতাধিক বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পাশাপাশি দুই শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছে। কেরানীর চর, কালির খামার ও চর চরিতাবাড়ী এলাকাতেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ সরকারি জমি বা রাস্তার পাশে অস্থায়ী ঘর তুলে বসবাস করছেন। ভুক্তভোগীরা বলেন, বিগত বছরগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদী ভাঙনে নদীর তীরবর্তী এলাকার কয়েক হাজার পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় বেড়িবাঁধ না থাকা কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর পানি বৃদ্ধি ও হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে নদী ভাঙন শুরু হয়, যা মাসের পর মাস চলতে থাকে। স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধ, ড্রেজিং বা নদী খননের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় প্রতি বছর চার থেকে পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর ও হাজারো একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বৃদ্ধা মমিনা বেগম বলেন, ‘নদীত হামার আবাদি জমি ধপাস ধপাস করি ভাঙি পড়ছে। ভয় লাগে, কখন বাড়িভিটাটুকু ভাঙি যায়।’ নদী ভাঙনের শিকার ফয়জার রহমান বলেন, ‘বিঘার পর বিঘা ফসলের জমি নদীর মধ্যে ভাঙি পড়ছে। এখন শুধু বাড়িভিটার একটুকু অংশ আছে।’ সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিযনের কছিম বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক বলেন, ‘অনেক আগেই তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। ফলে তিস্তা অনেক শাখা নদীতে বিভক্ত হয়েছে। এ কারণে সময়ে-অসময়ে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।’ কাপাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনজু মিয়া বলেন, ইউনিয়নের সবগুলো ওয়ার্ডই চরাঞ্চলে। গত কয়েক দিনে লালচামার এলাকার শতাধিক বসতভিটা, হাজারো গাছপালা ও একটি মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও ভাঙনের মুখে রয়েছে। ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে একসময় চরাঞ্চলের অনেক গ্রাম মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা ও ডাম্পিং কার্যক্রম চলছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ভাঙনকবলিত চার উপজেলায় ৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে তা বিতরণ করা হচ্ছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *