যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর এই প্রথম সিরিয়ার ভেতরে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শুক্রবার দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান বাহিনীর কমান্ড সেন্টারে আকস্মিক হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগের প্রকাশিত ‘অপারেশন নাসর-২’-এর ১৯তম বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানশাহরের বাম্পুর এলাকায় নিহত সেনাদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে অভিযানের ১১তম ধাপে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স এই হামলা পরিচালনা করেছে। তাদের দাবি, লক্ষ্যবস্তু ছিল আল-তানফে অবস্থিত শত্রুপক্ষের বিশেষ অভিযান কমান্ড সেন্টার।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলায় আল-তানফে থাকা মার্কিন বাহিনীর একটি রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে এবং বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত কয়েকটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার দাবিও করেছে আইআরজিসি। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীন বা নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
একই বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের যোদ্ধাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলে এ জলপথ দিয়ে এক ফোঁটা তেল বা গ্যাসও রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না বলেও সতর্কবার্তা দিয়েছে বাহিনীটি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন।
মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযান শুরু হয়। তাদের ভাষ্য, হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করা।
সেন্টকম জানায়, যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও একাধিক যুদ্ধজাহাজ থেকে নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, সামরিক রসদ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, চাবাহার, ইরানশাহর এবং বন্দর-ই খামির এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর-ই খামির সড়ক সেতুতে মার্কিন হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন। সেতুটি বন্দর আব্বাসের সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরের বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সংযোগ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
সূত্র : মেহের নিউজ এজেন্সি।