July 29, 2026, 4:59 pm
শিরোনাম:
গঙ্গাচড়ায় গর্তে রাস্তার বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি গাইবান্ধায় আড়াই বছর ধরে আটকে রয়েছে ৭টি সেতুর কাজ, ৪টি সেতুর কাজ শুরু হয়নি রামগতিতে পানির লাইন খুঁড়তে মিলল তিনটি মর্টার শেল সদৃশ বস্তু নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩ এর উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সুধী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে “নাগরিক ভাবনাঃ আমাদের করণীয়” শীর্ষক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী মাদকবিরোধী অভিযানে কৃতিত্বের স্বীকৃতি, সম্মানিত রাঙ্গামাটি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আলমগীর শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আটক ৩ জাপানে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

কুলাউড়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ  নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ মানুষ

মনোয়ার আলম কুলাউড়া (মৌলভীবাজার)

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় গত জুন থেকে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সংঘটিত ধারাবাহিক চুরি ও গরু চুরির ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ চোরচক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকলেও তাদের দমনে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
তথ্যানুসারে, এ সময়ের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৫টি গরু, দুটি সিএনজি অটোরিকশা এবং একাধিক বসতবাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ঘটনায় এখনো চুরি হওয়া গরু, যানবাহন কিংবা অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

গত ৮ জুন উপজেলার লস্করপুর এলাকায় রিয়াজ মিয়ার গোয়ালঘর থেকে গভীর রাতে দুটি গাভি ও দুটি ষাঁড় চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরদিন ৯ জুন রাউৎগাঁও ইউনিয়নের মাহবুব মিয়ার বাড়ি থেকে মৌলভীবাজার-থ ১২-৫২২০ নম্বরের একটি সিএনজি অটোরিকশা চুরি হয়। একই রাতে উছলাপাড়া গ্রামের কানাডা কুলাউড়া সমিতির সভাপতি মুহিবুর রহমান খান মুয়ুবের বাসায় চোরেরা প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়।

হাজিপুর ইউনিয়নের বারইগ্রামে জহুর আলীর গোয়ালঘরের তালা কেটে চারটি গরু চুরি করা হয়। চুরি হওয়া গরুর মধ্যে ছিল একটি শাহিওয়াল জাতের বাছুর, একটি লাল গাভি, একটি হালকা লাল রঙের গাভিন গাভি এবং একটি কালো গাভি।

১৫ জুন কর্মধা ইউনিয়নের পরশাই বেরী গ্রামে মো. রফিক মিয়ার গোয়ালঘরের তালা ভেঙে চারটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা।

১৯ জুন রাত প্রায় ১১টার দিকে কুলাউড়া সরকারি হাসপাতালের সামনে থেকে মৌলভীবাজার-থ ১৩-০৫৩৯ নম্বরের একটি সিএনজি অটোরিকশা চুরি হয়। সিএনজিটির মালিক হিংগাজিয়া চা-বাগান এলাকার মো. সাহেল আহমদ।

২৩ জুন রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে মাসুক মিয়ার গোয়ালঘরের তালা ভেঙে দুটি গরু চুরি করা হয়। একই দিনে ভূকশিমইল ইউনিয়নের জলালপুর গ্রামে মো. মশাহিদ আহমদের গোয়ালঘর থেকে দুটি গাভি ও একটি বাছুরসহ মোট তিনটি গরু চুরি হয়।
এ ছাড়া ৫ জুলাই কুলাউড়া শহরের হেলাল মঞ্জিলের একটি ভাড়াটিয়া বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। পরদিন ৬ জুলাই টিবিএফ চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম শামীমের বাসায় চোরেরা প্রবেশ করে একটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রায় প্রতিটি ঘটনার পর থানায় অভিযোগ করা হলেও চুরি হওয়া গরু, সিএনজি কিংবা মূল্যবান মালামাল উদ্ধারে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে খামারি ও সিএনজি মালিকরা রাত জেগে পাহারা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, অপরাধ দমনে নিয়মিত টহল জোরদার, সংঘবদ্ধ চোরচক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় অপরাধপ্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্নার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *