June 13, 2026, 4:52 pm
শিরোনাম:
নরসিংদীর শিবপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপলক্ষে বিভিন্ন গাছের চারা রোপন নিজের ভুলেই কোতোয়ালি থানার সামনে আটক ফুলপুরের আ’লীগ নেতা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু বগুড়ায় দুই বোনের গোসলের ভিডিও ধারণ, যুবক গ্রেপ্তার বিএনপি গণভোট নিয়ে জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেছে — মাও. আব্দুল হালিম পূবাইলে ৫১ গ্রাম হেরোইনসহ শীর্ষ মাদক কারবারি সোহেল ওরফে কালা পাহাড় আটক জাতীয় বাজেটে বরাদ্দের খাত না থাকায় জনমনে ধোঁয়াশা সমাজের কল্যাণে যারা কাজ করে তাদের সম্মান দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব-কৃষিমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় পুকুরিয়া ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন কুমিল্লায় ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার কেন্দ্রীয় শিবির নেতা জিসান

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু

এস,এম শাহাদৎ হোসাইন, রংপুর

প্রায় ১১ ঘন্টা পর মরদেহ হস্তান্তর

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে চিকিৎসকদের অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে স্বজনদের হামলায় তিন চিকিৎসক আহত হওয়ার ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনরত চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগ বন্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন। প্রায় ১১ ঘণ্টা মরদেহ ডেড হাউজে আটকে রাখার পর শনিবার বিকালে অবশেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হন্তান্তর করা হয়। আজ ১৩ জুন শনিবার ভোওে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুরজাহান বেগম (৫৫) নামে এক বৃদ্ধা। নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন চিকিৎসকদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। বিক্ষুব্ধ স্বজনরা কার্ডিওলজি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. রাকিবুল হাসান, ইন্টার্ন ডা. রিফাত ও ডা. নাইমের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেন। চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ভোর থেকেই মর্গের সামনে অবস্থান নেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তারা দাবি তোলেন, হামলাকারীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে না। শনিবার সকাল ১০টার দিকে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। দুপুর ১২টার দিকে তারা জরুরি বিভাগে তালা ঝুলিয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ঘোষণা করেন। একাধিকবার মরদেহ নিতে এলে চিকিৎসকদের বাধায় তা সম্ভব হয়নি। বিক্ষোভকারীরা বলেন, হামলাকারীদের ঘটনাস্থলে এসে চিকিৎসকদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, তবেই মরদেহ ছেড়ে দেওয়া হবে। বিকালে নিহতের ছেলে মিঠু ঘটনাস্থলে আসলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। নিহতের ভাগিনা আব্দুস সালাম ও স্বজন শাওন বলেন, আমরা বারবার মরদেহ নেওয়ার জন্য আকুতি জানিয়েছি, কিন্তু মরদেহ পাইনি। আমরা বলেছি, আগে দাফন করি, এরপর যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তাকে নিয়ে এসে ক্ষমা চাওয়া হবে। অন্যদিকে, নিহতের স্বজনরা মরদেহ না পেয়ে হাসপাতালের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। অভিযোগ করেন ডাক্তারদের অবহেলার কারণেই তারা উত্তেজিত হয়েছে। শনিবার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে নিহতের ছেলে অভিযুক্ত মিঠু ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলে প্রায় ১১ ঘণ্টা পর সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহ স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসকেরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলা নিন্দনীয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।