গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নে নির্মাণাধীন রামমূর্তি প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ, অর্থায়নের উৎস তদন্ত এবং সম্ভাব্য বিদেশি সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলার আলেম-উলামা ও সচেতন নাগরিকরা।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে ইমাম-উলামা পরিষদ ও সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, নির্মাণাধীন এ প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন, প্রকল্পটির অর্থায়নের উৎস, প্রকৃত ব্যয় এবং এর সঙ্গে দেশি-বিদেশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বৃহৎ পরিসরের এ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, সামাজিক অস্থিরতা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। তাই জাতীয় স্বার্থ, জননিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
এ সময় প্রকল্পের অর্থায়নের উৎস, আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদের উৎস এবং সম্ভাব্য বিদেশি সম্পৃক্ততা তদন্তের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পের নির্মাণকাজ স্থগিত রাখার আহ্বান জানান বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, জাতীয় নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ ৮ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা ইমাম-উলামা পরিষদের সভাপতি মুফতি মাহমুদুল হাসান কাসেমী, হেফাজতে ইসলামের গাইবান্ধা জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল বাসেতসহ বিভিন্ন ইসলামী, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ইমাম, শিক্ষক, ছাত্র-জনতা ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, জনস্বার্থ, জাতীয় স্বার্থ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বিষয়টি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।