June 10, 2026, 10:02 am
শিরোনাম:
কেডি খাল নগরবাসীর আশীর্বাদের পরিবর্তে অভিশাপে পরিণত লক্ষ্মীপুরে ৬ লাখ টাকার অভাবে থমকে আছে মেহেদীর জীবন তালগাছি বাজার বণিক বহুমুখী সমবায় লিঃ এর ১৫ তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত গাইবান্ধায় রেলওয়ের জমি দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান, শতাধিক অবৈধ স্থাপনা অপসারণ নরসিংদীর শিবপুরে প্রান্তিক পেশাজীবীদের সফট স্কিল ১০ দিনব্যাপি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন পাইকগাছায় আলোচিত হাসান হত্যা মামলার প্রধান আসামি মিন্টু-কে র‍্যাব আটক করেছে! গলাচিপায় পৃথক দুই ঘটনায় শিশু ও তরুণীর মরদেহ উদ্ধার তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে “শোক সভা ও দোয়া মাহফিল” এবং ঐতিহাসিক ৬ দফাদিবস পালন করছে শেখ হাসিনা পরিষদ জর্জিয়া রায়ছটা প্রেমাশিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবনির্বাচিত সভাপতিকে সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রায়ছটা প্রেমাশিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবনির্বাচিত সভাপতিকে সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কেডি খাল নগরবাসীর আশীর্বাদের পরিবর্তে অভিশাপে পরিণত

এস, এম শাহাদৎ হোসাইন, রংপুর

রংপুর নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খনন করা ঐতিহ্যবাহী কেডি খাল এখন পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনা ও দূষিত পানির ভাগাড়ে। সংস্কারের অভাবে খালজুড়ে জমে থাকা বর্জ্যের কারণে মশার উপদ্রব বাড়ার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে চরম জনস্বাস্থ্য ঝঁকি। সরেজমিনে দেখা যায়, কোথাও কচুরিপানায় ঢেকে গেছে পানিপ্রবাহ, কোথাও আবার জমে আছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। খালের দুই পাড় দখল ও ভরাটের কারণে অনেক স্থানে সংকুচিত হয়ে স্বাভাবিক প্রবাহে প্রভাব পড়েছে। ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারের নামে মাঝেমধ্যে উদ্যোগ নেয়া হলেও মিলছে না কোনো স্থায়ী সমাধান। জানা যায়, জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে রংপুর নগরীকে রক্ষা করতে প্রায় দেড়শ বছর আগে তৎকালীন পৌর প্রশাসক কৃষ্ণধন ঘোষ (কেডি ঘোষ) এই খাল খনন করেছিলেন। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি চিকলি বিল থেকে উৎপন্ন হয়ে নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শ্যামাসুন্দরী খালের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। পরে এটি খোকসা ঘাঘট নদীতে গিয়ে মিশেছে। নগরীর পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও সময়ের পরিক্রমায় এখন সেই খাল যেন দুর্দশার প্রতীক। নগরীর কামাল কাছনা এলাকার সেলিনা আক্তার বলেন, এই খালের পাড়ে আমার বাড়ি। একবার খনন করার পর সেই খনন করা মাটি খালেই মিশে গেছে। আশপাশের বাড়িগুলোর পায়খানার লাইনের ময়লা এই খালে পড়ছে। মশা-মাছির যন্ত্রণায় দিনের বেলাও বাচ্চাদের মশারির ভেতর রাখতে হচ্ছে। আর মাঝে মাঝে এত পরিমাণে দুর্গন্ধ ছড়ায় যে, আমাদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। আনিস মোল্লা বলেন, ‘ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ খালটি। তাই পানি কোথাও যেতে পারছে না। ফলে দুর্গন্ধের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছি। শহরের বড় একটি অংশের জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করে কেডি খাল। শ্যামাসুন্দরী খাল নিয়ে অনেক মিটিং,আন্দোলন হলেও এটি নিয়ে কেউ কোনো কথা বলছে না। মেয়র আসে-যায়, কিন্তু কোনো কাজ হয় না। আমরা চাই শ্যামাসুন্দরী খালের পাশাপাশি কেডি খাল দ্রুত সংস্কার করা হোক। রংপুর মহানগর সুজনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জোবাইদুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের বড় বড় সৌন্দর্যময় শহর গড়ে উঠেছে খালের পাশে। আমাদের শহরে দুটি ঐতিহ্যবাহী খাল রয়েছে। সেই খালগুলো সংস্কারের অভাবে আশীর্বাদের জায়গায় অভিশাপে পরিণত হয়েছে। নতুন সরকার খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন, শ্যামাসুন্দরী ও কেডি খাল খননসহ সংস্কারের মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পাবে। এসব খাল শুধু খনন করলেই হবে না, খালপাড়কে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে বিনোদনের স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ২০২২ সালে কেডি খাল সংস্কারে প্রায় ১ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হলেও তার সুফল পাননি নগরবাসী। তবে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বলেন, খালটি পুনরুদ্ধার ও সংস্কারে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ-উন-নবী ডন বলেন, কেডি খাল রংপুরের ঐতিহ্যবাহী একটি খাল। এটি খনন করে প্রাণ ফেরাতে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করব। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে খালগুলো সংস্কারে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছি। এক্ষেত্রে নগরবাসীর সহযোগিতা চাই।