June 6, 2026, 12:58 pm
শিরোনাম:
পুশইন বন্ধে কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায় সা.সু.প গাইবান্ধায় বাড়ী থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে আটক ৩ গাইবান্ধায় ডিবি পুলিশের অভিযানে জুয়ার আসর থেকে ৩ জুয়াড়ি গ্রেফতার তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই রুগ্ন চৌদ্দগ্রামে ইয়াবাসহ ছাত্রলীগ নেতা ইয়াবা খলিল আটক বগুড়া আদমদীঘিতে বিশেষ অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ ১৩ আসামি গ্রেফতার কুষ্টিয়ায় লেক ভরাট করে পার্ক নির্মাণের অভিযোগ পাইকগাছায় এনজিওর নামে অভিনব প্রতারণা! নির্বাহী পরিচালক উধাও! ফরিদপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‍্যালি অনুষ্ঠিত মায়ের পৈশাচিক লোভের বলি হয়ে প্রতিবন্ধী সন্তান বুকে নিয়ে অনাহারে লুৎফুন নাহার!

মায়ের পৈশাচিক লোভের বলি হয়ে প্রতিবন্ধী সন্তান বুকে নিয়ে অনাহারে লুৎফুন নাহার!

শাহরিয়ার কবির পাইকগাছা (খুলনা)

মায়ের পৈশাচিক লোভের বলি হলেন নিজেরই গর্ভজাত মেয়ে! যে মায়ের আঁচলকে সন্তান পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় মনে করে, সেই মায়ের দেওয়া চরম অবিশ্বাসের দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল একটি অসহায় নারীর ১৮ বছরের সাজানো সংসার। নিজের জন্মদাত্রী মায়ের নির্মম প্রতারণার শিকার হয়ে স্বামী হারিয়ে, দুই সন্তান নিয়ে এখন ছাবড়া ঘরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন লুৎফুন নাহার নামে এক ভাগ্যাহত নারী। কলিজার টুকরো এক প্রতিবন্ধী সন্তান ও বড় ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে এই মায়ের কান্নায় এখন পাইকগাছার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে, অথচ পাথর হয়ে আছেন কেবল সেই লোভী মা আনোয়ারা বেগম!

হৃদয়বিদারক ও গা শিউরে ওঠা এই ঘটনাটি ঘটেছে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দেবদুয়ার শেখ পাড়া এলাকায়। বর্তমানে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটানো লুৎফুন নাহারের ঘরে জ্বলছে না কোনো উনুন, কিন্তু বুকে জ্বলছে বিশ্বাসের নির্মম চিতার আগুন।

সরল বিশ্বাসের বুক চিরে মায়ের কুঠারাঘাত
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে নিজের একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই করার স্বপ্নে বিভোর লুৎফুন নাহার তার মামার বাড়ির সম্পত্তি থেকে ২ শতক জমি কেনার জন্য প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার টাকা বায়না করেন। পরবর্তীতে লুৎফুন নাহার ও তার স্বামী শাহিনুর রহমান কঠোর পরিশ্রম করে, দিনকে রাত করে ঘাম ঝরানো জমানো সর্বমোট ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করে জমির পরিমাণ বাড়িয়ে ১০ শতক করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

সব ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু বিধিবাম! জমি রেজিস্ট্রি করার সময় দেখা দেয় আইনি জটিলতা। জমিটির ‘মিউটেশন’ বা নামজারি কাটা না থাকায় লুৎফুন নাহারের নামে সরাসরি রেজিস্ট্রি করা যাচ্ছিল না। সেই চরম মুহূর্তে সরল বিশ্বাসে, অবুঝের মতো নিজের গর্ভধারিণী মা আনোয়ারা বেগমের নামে জমিটি হেবা দলিলের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করার সিদ্ধান্ত নেন লুৎফুন নাহার। তখন তিনি ভাবতেও পারেননি, যে মা তাকে দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করেছেন, সেই মা-ই একদিন তার পিঠে বিষাক্ত ছুরি মারবেন!

টাকাও গেল, সংসারও ভাঙল:
জমির নামজারি সংক্রান্ত জটিলতা কেটে যাওয়ার পর যখন লুৎফুন নাহার জমিটি নিজের নামে লিখে দিতে বলেন, তখনই বেরিয়ে আসে মায়ের আসল পৈশাচিক রূপ। আনোয়ারা বেগম সরাসরি জমি দিতে অস্বীকার করেন। নিজের মেয়ের হাড়ভাঙা খাটুনির রক্ত জল করা টাকায় কেনা জমিকে নিজের দাবি করে বসেন মা!

এদিকে স্ত্রীর এমন পারিবারিক জটিলতা ও নিজের শাশুড়ির এই চরম প্রতারণা, জালিয়াতি মেনে নিতে পারেননি লুৎফুন নাহারের স্বামী শাহিনুর রহমান। এই জমি ও পারিবারিক কলহের জেরে একপর্যায়ে দীর্ঘ ১৮ বছরের ভালোবাসার সংসার এক নিমেষে চুরমার করে লুৎফুন নাহারকে তালাক দিয়ে দেন তার স্বামী। মায়ের এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা কেড়ে নিল মেয়ের দাম্পত্য সুখ, ভেঙে দিল একটি সুখী পরিবার।

প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে কোথায় যাবেন লুৎফুন নাহার?
সংসার ভেঙে যাওয়ার পর লুৎফুন নাহারের ওপর যেন জীবন্ত আকাশ ভেঙে পড়েছে। তার দুটি ছেলের মধ্যে একটি সন্তান শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম প্রতিবন্ধী। নিজের মাথা গোঁজার নিজস্ব কোনো ঠাঁই নেই, তার ওপর প্রতিবন্ধী সন্তানের চিকিৎসার খরচ ও দুই বেলার অন্ন জোগাতে গিয়ে আজ তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব।

চোখের জল মুছতে মুছতে, কান্নাজড়িত কণ্ঠে লুৎফুন নাহার এই প্রতিবেদককে বলেন,

“নিজের মায়ের ওপর বিশ্বাস রাখার এই পৈশাচিক শাস্তি আমি পাব তা কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি। মা আমার সংসারটাও শেষ করে দিল, জমানো টাকাটাও কেড়ে নিল। এখন এই প্রতিবন্ধী ছেলেটাকে নিয়ে আমি কোথায় যাব? কার দুয়ারে দাঁড়াব? আল্লাহ কি এর বিচার করবেন না?”

আইনি হস্তক্ষেপের আকুল আবেদন:
একজন জন্মদাত্রী মায়ের এমন অমানবিক, নিষ্ঠুর আচরণ ও জালিয়াতির ঘটনায় গোটা পাইকগাছা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। এলাকাবাসী ধিক্কার জানাচ্ছেন এই লোভী মাকে। লুৎফুন নাহার যেন তার পৈত্রিক অধিকার, নিজের কষ্টের টাকায় কেনা জমি ফেরত পান এবং এই প্রতারক মায়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ইউপি চেয়ারম্যান এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জরুরি ও তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সর্বস্তরের মানুষ।

টাকার লোভে মায়ের কলঙ্কিত রূপের অবসান হোক, আর লুৎফুন নাহারের মতো অসহায় মা ফিরে পাক তার বেঁচে থাকার অধিকার—আজ এটাই সবার একমাত্র দাবি।

এ বিষয়ে আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ১০ শতাংশ জমির মধ্যে ৫ শতাংশ তার নিজের এবং বাকি ৫ শতাংশ বড় মেয়ে লুৎফুন নাহারের। তার দাবি, জমি ক্রয়ের জন্য লুৎফুন নাহার ও তার স্বামী ৪৫ হাজার টাকা এবং তার স্বামী শেখ আব্দুল লতিফ ৪৫ হাজার টাকা প্রদান করেছিলেন।

অন্যদিকে জমির বিক্রেতা কাজী উমর আলী ভিন্ন তথ্য দেন। তিনি বলেন, জমি বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ লুৎফুন নাহার ও তার স্বামী শাহিনুর রহমান পরিশোধ করেছেন। তাদের পক্ষে ভগ্নিপতি শেখ আব্দুল লতিফ তার কাছে টাকা পৌঁছে দেন।