দেশব্যাপী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়ম তোয়াক্কা করছে না খুলনার শিববাড়ি মোড় এলাকার বেশ কিছু অভিজাত ব্র্যান্ড শপ ও শপিংমল। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ করার কথা থাকলেও, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তা লঙ্ঘন করে মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন সরকারি আদেশ অমান্য করা হচ্ছে, অন্যদিকে অপচয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ।
সরেজমিনে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের কেনাকাটার সুবিধার্থে সরকার সাময়িকভাবে দোকানপাট বন্ধের সময়সীমা সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শিববাড়ি মোড়ের কিছু নামী-দামী ব্র্যান্ড শপ সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ঈদুল আজহার ছুটি শেষ হওয়ার পর গত দিন থেকে আবারও পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টায় সকল শপিংমল ও অপ্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধের কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে সেই নির্দেশনার কোনো তোয়াক্কাই করছেন না শিববাড়ির ব্যবসায়ীরা। তারা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের সুবিধা মতো সময়ে শপিংমল ও শোরুমগুলো বন্ধ করছেন।
ব্যবসায়ীদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাধারণ ক্রেতা ও পথচারীরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে এক পথচারী বলেন, “দেশের সংকটের কথা চিন্তা করে আমরা সাধারণ মানুষ ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা লিটার দরে জ্বালানি তেল কিনে চলছি। দেশের স্বার্থে আমরা যদি এই কষ্ট মেনে নিতে পারি, তবে এই বড় বড় ব্যবসায়ীরা কেন সামান্য বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারছেন না? কেন তারা এভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় করছেন?”
সচেতন মহল মনে করছেন, সাধারণ মানুষের পকেট থেকে যেখানে বাড়তি টাকা যাচ্ছে, সেখানে শপিংমলগুলোর এমন নিয়মহীনভাবে লাইটিং ও এসি চালিয়ে ব্যবসা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
দেশের এই ক্রান্তিকালে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন খুলনাবাসী। একই সাথে শিববাড়িসহ নগরীর বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে প্রশাসনের নিয়মিত ও আকস্মিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার জোর দাবি জানানো হয়েছে।