তিন হাজারের বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে নেক্সজেন গ্র্যাজুয়েট ফেলোশিপ প্রোগ্রামের প্রথম ব্যাচে নির্বাচিত হয়েছেন ২০ জন তরুণ। তাঁদের মধ্যেই স্থান করে নিয়েছেন সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী মোহাম্মদ মনির হোসেন কাজী-এর পুত্র কৃষিবিদ আবদুল্লাহ আল আহসান আলভী।
ইয়ুথনেট গ্লোবাল ও জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ ফেলোশিপটি ‘নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড’-এর আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে সহায়তা দিচ্ছে সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। কর্মসূচি পরিচালনায় রয়েছে GFA Consulting Group।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মেধা, নেতৃত্ব ও পেশাগত সক্ষমতাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যেই চালু হয়েছে নেক্সজেন গ্র্যাজুয়েট ফেলোশিপ। ঢাকা বিভাগের ২৫ থেকে ৩২ বছর বয়সী স্নাতক সম্পন্নকারী তরুণ এবং ক্যারিয়ারের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা পেশাজীবীদের জন্য এ উদ্যোগকে পেশাগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে যারা নিজেদের বর্তমান কর্মক্ষেত্রে এন্ট্রি-লেভেলের সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ মনে করছেন এবং নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে আগ্রহী, তাঁদের জন্য এই ফেলোশিপ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশ থেকে তিন হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। প্রাথমিক বাছাই শেষে ৪০ জন অংশগ্রহণকারী চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্বাচিত হন ২০ জন ফেলো। রাজধানীর Platinum Grand-এ গত ১৮ ও ১৯ মে অনুষ্ঠিত দুই দিনের ‘ইকুইটি-ফোকাসড সিলেকশন স্প্রিন্ট’-এর মাধ্যমে তাঁদের চূড়ান্ত করা হয়।
প্রচলিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এ সিলেকশন স্প্রিন্টকে নেতৃত্ব বিকাশ ও সক্ষমতা মূল্যায়নের একটি সমন্বিত পদ্ধতি হিসেবে সাজানো হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা দলভিত্তিক সমস্যা সমাধান, নেতৃত্ব মূল্যায়ন, সহযোগিতামূলক কাজ এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী চ্যালেঞ্জে অংশ নেন।
পাঁচ সদস্যের একটি মূল্যায়ন প্যানেল অংশগ্রহণকারীদের নেতৃত্বগুণ, যোগাযোগ দক্ষতা, সময় ব্যবস্থাপনা, বিশ্লেষণী সক্ষমতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক চিন্তা ও দলগত কাজের দক্ষতা পর্যবেক্ষণ করেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে ড. আদি ওয়াকার বলেন, সক্রিয় নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ তরুণদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আয়োজকদের মতে, ছয় মাসব্যাপী এই ফেলোশিপ দুটি ধাপে পরিচালিত হবে। প্রথম তিন মাসে অংশগ্রহণকারীরা নেতৃত্ব উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাবেন। পরবর্তী তিন মাসে তাঁরা সরকার, করপোরেট খাত, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাস্তব প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।