May 15, 2026, 11:56 am
শিরোনাম:
ট্রাম্পের পর এবার চীনে যাচ্ছেন পুতিন, পর্দার আড়ালে কি ঘটছে? মহেশপুর রাস্তা ভেঙে পুকুরের ভিতরে, একবছরও সংস্কার না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে স্থানীয় জনগন বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই ড্রিংকো জুস উৎপাদন: কারখানা সিলগালা মালিককে জেল-জরিমানা নাগরপুরে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ২ কারবারি গ্রেফতার সুন্দরগঞ্জে কুকুরের কামড়ে ৪ জনের মৃত্যু, আহত ১১ রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের বাণিজ্যের সম্ভাবনা ২৫০ কোটিও বেশি বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়ে ঝালকাঠিতে জেলা তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিং গলাচিপায় ১,৫০০ পিস ইয়াবাসহ মা-ছেলেসহ আটক ৪ গাজীপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে চোরাই ২৬টি মোবাইল ফোনসহ যুবক আটক মাভাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য হলেন অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম

রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের বাণিজ্যের সম্ভাবনা ২৫০ কোটিও বেশি

রংপুর প্রতিনিধি:

হাঁড়িভাঙা আম আর মাত্র এক মাস পরই বাজারে আসবে। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের ঐতিহ্য হিসাবে পরিচিত। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি করে রংপুর অঞ্চলে ২৫০ কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আমচাষি ও সংশ্লিষ্টরা। শুধু আম বিক্রি করে নয়, আম পরিবহনেও বিপুল পরিমাণ আয় করবেন পরিবহন মালিকরা। হাঁড়িভাঙা আমের বেশিষ্ট হলো এক বছর কম ফলন হয়। তবে পরের বছর আবার ভালো ফলন হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর ২৫০ কোটিরও বেশি টাকার বাণিজ্য হবে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি করে। এবার হাঁড়িভাঙার ‘অন ইয়ার’ অর্থাৎ গাছে প্রচুর আম ধরেছে, গত বছরের চেয়ে বেশি। হাঁড়িভাঙা আম আঁশবিহীন, মিষ্টি ও সুস্বাদু, খোসা পাতলা এবং আঁটি অত্যন্ত ছোট। প্রতিটি আমের ওজন সাধারণত ২০০-৩০০ গ্রাম হয়। ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের নিজস্ব জিআই পণ্য হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে। চলতি বছর জেলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে অন্যান্য জাতসহ হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে কেবল হাঁড়িভাঙার চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ১০ থেকে ১২ টনা। যার বাজারমূল্য ২৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টি আম বড় ও রসালো হতে বিশেষ সাহায্য করেছে। যদিও মাঝখানে কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় আমের সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে গত বছরের চেয়ে ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে। কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, এবার ডিসেম্বরের প্রথমদিক থেকেই গাছে আমের মুকুল আসতে শুরু করে। ফলে চলতি বছর ঠিক জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে গাছ থেকে আম সংগ্রহ শুরু করা হবে। চাষিরাও বলেন, জুনের মাঝামাঝি সময় পরিপক্ক হাঁড়িভাঙা আম বাজারে পাওয়া যাবে। এর আগে বাজারে আসা আম মূলত অপরিপক্ক থাকে। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় বাজারে অপরিপক্ক আম বিক্রি করে। মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকার হাফিজুর রহমান ও নজরুল ইসলাম বলেন, তারা দুজনে ১৬ একরের বেশি জমিতে হাঁড়িভাঙার চাষ করেছেন। শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বাগানের কিছুটা ক্ষতি হলেও শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে। আমের পাইকার আব্দুল মালেক বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বড় বড় ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যেই হাঁড়িভাঙা আমের জন্য যোগাযোগ শুরু করেছেন। এবার আমের দাম ও চাহিদা দুটোই সন্তোষজনক হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা। জিআই পণ্য হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর হাঁড়িভাঙার ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ বেড়েছে। দেশের ভেতরে সরাসরি বাগান থেকে আম সরবরাহ বেড়েছে। বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। তবে হিমাগার বা আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে চাষিদের কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। হিমাগার থাকলে চাষিরা আম সংরক্ষণ করে তা বিক্রি করতে পারতেন। এতে লাভ বেশি হতো। হাঁড়িভাঙা আম দ্রুত পচনশীল হওয়ায় পরিবহনের জন্য বিশেষ ট্রেন বা দ্রুতগামী যানবাহনের ব্যবস্থা করার দাবি আমচাষিদের।