July 29, 2026, 4:58 pm
শিরোনাম:
গঙ্গাচড়ায় গর্তে রাস্তার বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি গাইবান্ধায় আড়াই বছর ধরে আটকে রয়েছে ৭টি সেতুর কাজ, ৪টি সেতুর কাজ শুরু হয়নি রামগতিতে পানির লাইন খুঁড়তে মিলল তিনটি মর্টার শেল সদৃশ বস্তু নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩ এর উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সুধী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে “নাগরিক ভাবনাঃ আমাদের করণীয়” শীর্ষক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী মাদকবিরোধী অভিযানে কৃতিত্বের স্বীকৃতি, সম্মানিত রাঙ্গামাটি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আলমগীর শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আটক ৩ জাপানে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

চিন-পাকিস্তানের ভয়ে বঙ্গোপসাগরে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা ভারতের

নিউজ পাওয়ার ২৪ ডেস্ক:

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের আগ্রাসী মনোভাব এবং পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আসা সম্ভাব্য হুমকির মুখে নিজেদের প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে ভারত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক’ নীতির ওপর ভিত্তি করে ভারতের পূর্ব উপকূল এখন দেশটির নিরাপত্তার প্রধান অক্ষে পরিণত হয়েছে। কৌশলগত এই এলাকাটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে তামিলনাড়ু হয়ে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত, যা সরাসরি বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক কিছু বার্তায় ভারতের পূর্ব উপকূলে কৌশলগত চাপ তৈরির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে তার চেয়েও বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে মায়ানমারের মধ্য দিয়ে চিনের ইউনান প্রদেশকে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। যদিও মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধের কারণে চিনের এই করিডোর নির্মাণের কাজ কিছুটা পিছিয়ে গেছে, তবে একে ভারতের জন্য একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে ভারত তার পূর্ব উপকূলের প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো শক্তিশালী করার পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে।

এই নতুন নিরাপত্তা বলয়ে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে ভারতের একটি ‘অজেয় রণতরী’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ মালাক্কা প্রণালির সন্নিকটে অবস্থিত হওয়ায় এই দ্বীপপুঞ্জ ভারতের সামুদ্রিক আধিপত্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর জ্বালানি নির্ভরতার কারণে ভারতের পশ্চিম দিকে যেমন দুর্বলতা রয়েছে, মালাক্কা প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ভারতের জন্য তেমনই এক কৌশলগত সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

ভারতের এই নতুন কৌশলে কেবল সামরিক দিক নয় বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে বন্দর উন্নয়ন ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বারবারই সংযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যেই পূর্ব উপকূলের বন্দর ও শিল্প করিডোরগুলোকে ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কা সামলানোর উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ভারত এখন বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক প্রতিযোগিতা মোকাবিলা এবং আন্দামান ও নিকোবরকে প্রধান কৌশলগত লিভারে পরিণত করার দিকে এগোচ্ছে। শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মরিশাস এবং সেশেলসের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উপকূলীয় নজরদারি ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে ভারত তার ‘সাগর’ ভিশন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *