নিউইয়র্ক সিটির আকাশপথে যাতায়াতের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে শুরু করেছে জোবি এভিয়েশন। সম্প্রতি কোম্পানিটি তাদের তৈরি ইলেকট্রিক ভার্টিক্যাল টেকঅফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং (ইভিটিওএল) এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে শহরটির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জেএফকে বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে এই বিশেষ আকাশযানটি ম্যানহাটনের ডাউনটাউন স্কাইপোর্ট এবং মিডটাউনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ হেলিপোর্টে সফলভাবে অবতরণ করেছে। মূলত নিউইয়র্কের যানজট এড়িয়ে যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে জেএফকে বিমানবন্দর থেকে ম্যানহাটনে পৌঁছাতে সড়কপথে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে, কিন্তু জোবি এভিয়েশনের দাবি অনুযায়ী তাদের এই এয়ার ট্যাক্সি ব্যবহার করলে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই এই পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব হবে।
গত সেপ্টেম্বর মাসে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ঘোষিত একটি বিশেষ পাইলট প্রকল্পের আওতায় এই সপ্তাহব্যাপী পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। কোম্পানিটি এখন তাদের চূড়ান্ত পর্যায়ের সার্টিফিকেশনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই ধাপ সম্পন্ন হলেই তারা বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহন শুরু করতে পারবে।
পরিবেশবান্ধব এবং দ্রুতগতির এই পরিবহন ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করেছে ডেল্টা এয়ারলাইন্সও। ২০২২ সালে কোম্পানিটি জোবি এভিয়েশনে ৬০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।
নিউ ইয়র্ক এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো শহরগুলোতে যাত্রীদের জন্য এয়ার ট্যাক্সি সেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি কেবল আমেরিকাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভারত, চীন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোও দ্রুত এই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জোবি এভিয়েশন মনে করছে, জনাকীর্ণ শহরগুলোতে শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে নিখুঁতভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করাটাই হবে তাদের ব্যবসার অন্যতম বড় সাফল্য। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা খুব শীঘ্রই সাধারণ মানুষ এই আধুনিক আকাশযানে চড়ার সুযোগ পেতে পারেন।