May 9, 2026, 9:03 am
শিরোনাম:
ভেনেজুয়েলার সাড়ে ১৩ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে গেলো যুক্তরাষ্ট্র রামগতিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মহিষের দুধ ও দধি উৎপাদন: জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর মধ্যে আবারো সংঘর্ষ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে অনড় অবস্থানে ইরান রাজবাড়ীতে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ঘুড়ি উৎসব ইরাকের তেল উপমন্ত্রীকে নিশানা করলো যুক্তরাষ্ট্র: আল-জাজিরার ইরানকে এমন ড্রোন দিতে চেয়েছিল রাশিয়া, যা থামানো প্রায় অসম্ভব বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়ল পাকিস্তান বরিশালে বাস শ্রমিক-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ, আহত ২ ভাটিয়াপাড়া বাজার কমিটি প্রকাশ সভাপতি জাহিদুর- সম্পাদক ফোরকান

ভেনেজুয়েলার সাড়ে ১৩ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে গেলো যুক্তরাষ্ট্র

নিউজ পাওয়ার ২৪ ডেস্ক:

ইউরেনিয়াম ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হলেও, ভেনেজুয়েলার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, ট্রাম্পের দৃঢ় নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার একটি পুরোনো গবেষণা রিয়্যাক্টর থেকে ১৩ দশমিক ৫ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভেনেজুয়েলার যৌথ অভিযানে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের একটি স্থাপনা থেকে ইউরেনিয়াম সরানো হয়। ভেনেজুয়েলা সরকার বলেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক অভিযানের পর ওই এলাকায় ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এই অপসারণ জরুরি হয়ে পড়ে।

মার্কিন ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রশাসক ব্রান্ডন উইলিয়ামস বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে নিরাপদে সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে দেশটির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে বিশ্বকে আরেকটি বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সি জানায়, “জটিল ও সংবেদনশীল” এই অভিযানে ইউরেনিয়াম নিরাপদে স্থল ও সমুদ্রপথে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে উত্তর আমেরিকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে তা যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে জ্বালানি বিভাগের একটি স্থাপনায় নেওয়া হয়।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে মার্কিন কর্মকর্তারা কারাকাস সফর করেছেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়েছে এবং মার্কিন দূতাবাসও আবার খুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এখনও ইরানের–এর প্রায় ৪০৮ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগে বাধ্য করা। তবে এখন পর্যন্ত সে প্রচেষ্টা সফল হয়নি। এই ইউরেনিয়াম দিয়ে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে পারে বলে অভিযোগ এনে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা চালায় মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়।

একই দিনে মিনব শহরে শারজাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই হামলার প্রতিবাদে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে এবং ইসরায়েল ১০০ দফা আক্রমণ চালায় ইরান।

৩৯ দিন পর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন ট্রাম্প। ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এমন অবস্থায় ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর ২১ এপ্রিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তবে তেহরান একতরফা এই সিদ্ধান্ত স্বীকার করেনি।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, ৪০ দিনের এই সংঘাতে তিন হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান