লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মহিষের দুধ সংগ্রহ এবং সেই দুধ দিয়ে দধি তৈরির মহোৎসব চলছে। খোলা অবস্থায় রাখা দুধে মাছি ও পোকামাকড় ডিম পাড়ছে, আর সেই বিষাক্ত মিশ্রণ দিয়েই বসানো হচ্ছে দধি। এসব ভেজাল ও নোংরা দধি খেয়ে সাধারণ মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়লেও অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য থামছে না।
চরের দুধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ:
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে এই মহিষের দুধ বাজারে আসে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে খোলা পাত্রে দুধ আনার সময় তাতে প্রচুর পরিমাণে মাছি ও ধুলোবালি পড়ে। এমনকি দুধে পোকামাকড় ডিম পেড়ে বংশবিস্তার করছে বলেও স্থানীয়রা জানান। পরে এই দূষিত দুধ দিয়েই তৈরি করা হচ্ছে দধি, যা আলেকজান্ডার বাজার, জমিদার হাট বাজার, রামগতি বাজার, হাজীগঞ্জ বাজার এবং রামদয়াল বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে।
দুধে ভেজাল ও পাউডার মিশ্রণ:
এলাকাবাসীর আরও একটি বড় অভিযোগ হলো দুধে চরম কারচুপি। গোয়ালারা যখন চর থেকে দুধ সংগ্রহ করতে যান, তখন অনেক ক্ষেত্রে মহিষের খাঁটি দুধের সাথে প্রচুর পরিমাণ পানি, গুঁড়ো দুধ (পাউডার) এবং সাধারণ গরুর দুধ মিশিয়ে তা ‘খাঁটি মহিষের দুধ’ হিসেবে চড়া দামে বাজারে বিক্রি করেন। এর ফলে ক্রেতারা একদিকে যেমন আর্থিক প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে পুষ্টির বদলে শরীরে প্রবেশ করছে ক্ষতিকর উপাদান।
প্রশাসনের অভিযান ও বর্তমান পরিস্থিতি:
সম্প্রতি এই অনিয়ম দেখে নৌ পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু খোলা ও অস্বাস্থ্যকর দুধ জব্দ করে নদীতে ফেলে দেয় এবং সংশ্লিষ্টদের অর্থদণ্ড প্রদান করে। তবে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের পরেও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পুনরায় চলছে নোংরা পরিবেশে দুধ ও দধি কেনাবেচা।
জনগণের দাবি:
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, কেবল নামমাত্র জরিমানা করে এই অসাধু ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব নয়। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় রামগতি উপজেলার প্রধান বাজারগুলোতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা এবং দুগ্ধ খামারি ও দধি উৎপাদনকারীদের কঠোর নজরদারির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই দূষিত দধি ও ভেজাল দুধ থেকে রামগতিতে বড় ধরনের কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।