May 9, 2026, 9:05 am
শিরোনাম:
ভেনেজুয়েলার সাড়ে ১৩ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে গেলো যুক্তরাষ্ট্র রামগতিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মহিষের দুধ ও দধি উৎপাদন: জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর মধ্যে আবারো সংঘর্ষ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে অনড় অবস্থানে ইরান রাজবাড়ীতে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ঘুড়ি উৎসব ইরাকের তেল উপমন্ত্রীকে নিশানা করলো যুক্তরাষ্ট্র: আল-জাজিরার ইরানকে এমন ড্রোন দিতে চেয়েছিল রাশিয়া, যা থামানো প্রায় অসম্ভব বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়ল পাকিস্তান বরিশালে বাস শ্রমিক-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ, আহত ২ ভাটিয়াপাড়া বাজার কমিটি প্রকাশ সভাপতি জাহিদুর- সম্পাদক ফোরকান

ইরানকে এমন ড্রোন দিতে চেয়েছিল রাশিয়া, যা থামানো প্রায় অসম্ভব

নিউজ পাওয়ার ২৪ ডেস্ক:

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে ইরানকে গোপনে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল রাশিয়া—এমন দাবি উঠে এসেছে নতুন এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, মস্কো ইরানের কাছে এমন কিছু অত্যাধুনিক ড্রোন সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ একটি গোপন পরিকল্পনা তৈরি করে। এতে ইরানকে পাঁচ হাজার স্বল্পপাল্লার ফাইবার অপটিক ড্রোন দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত এই প্রযুক্তিকে প্রায় অপ্রতিরোধ্য বলা হচ্ছে, কারণ এগুলো সহজে জ্যাম করা যায় না।

সাধারণ ড্রোন যেখানে রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, সেখানে ফাইবার অপটিক ড্রোন সরাসরি তারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে শত্রুপক্ষের পক্ষে এগুলো শনাক্ত বা অকার্যকর করা কঠিন। জানা গেছে, এসব ড্রোন ৪০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে নির্ভুল হামলা চালাতে সক্ষম।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দূরপাল্লার স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত ড্রোন এবং সেগুলো পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ও পরিকল্পনায় ছিল। একই সঙ্গে স্টারলিংক টার্মিনাল সংযুক্ত ড্রোন ব্যবহারের কথাও ভাবা হচ্ছিল, যা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে হামলা চালাতে সক্ষম।

এই পরিকল্পনা এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছিল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযান চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা বাড়ছিল। বিশেষ করে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা খারগ দ্বীপ নিয়ে উদ্বেগ ছিল।

তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি, রাশিয়া বাস্তবে এসব ড্রোন ইরানকে সরবরাহ করেছে কি না।

রাশিয়ার গোয়েন্দা কার্যক্রম বিশ্লেষক ক্রিস্টো গ্রোজেভের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও ইরানের সামরিক সম্পর্ক দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়েছে এবং এই পরিকল্পনা সেই প্রবণতারই ইঙ্গিত দেয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানি ড্রোন অপারেটর তৈরির জন্য রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত প্রায় ১০ হাজার ইরানি শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে লোক বাছাইয়ের প্রস্তাব ছিল। পাশাপাশি তাজিক ও সিরিয়ার আলাওয়ি সম্প্রদায়ের লোকদের অন্তর্ভুক্ত করার কথাও ভাবা হচ্ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জন্য নতুন নিরাপত্তা সংকট তৈরি হতে পারে।

দ্য ইকোনমিস্ট