May 6, 2026, 5:36 am
শিরোনাম:
পশ্চিমবঙ্গে ” জয় শ্রীরাম ” কৌশলে জিতে গেল বিজেপি মালয়েশিয়ায় অন্যের পরিচয়পত্র দিয়ে পেট্রোল কেনায় বাংলাদেশিকে ১০ হাজার রিংগিত জরিমানা মালয়েশিয়ায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী যুবক নজরুল ইসলাম বোয়ালমারীতে প্রাইভেট কার থেকে লাশ ফেলার চেষ্টা, আটক ২ বাগেরহাটে ভাঙচুর লুটপাট করে বাড়িঘর দখলের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ২ নরসিংদী ডিবির পুলিশ এর অভিযানে মটর সাইকেল উদ্ধার গ্রেপ্তার-২ ডামুড্যা উপজেলায় তথ্য আপা কর্তৃক উঠান বৈঠকে গ্রাম আদালত নিয়ে আলোচনা পটিয়া চক্রশালা কৃষি স্কুলে ১৭ টি সিপিইউ ভাংচুর: দুটি মনিটর নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ: থানায় জিডি শাহজাদপুরে সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের সাথে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মতবিনিময় বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা বাসের ধাক্কায় দাদী-নাতির প্রাণহানি

মালয়েশিয়ায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী যুবক নজরুল ইসলাম

কুয়ালালামপুর, মালয়শিয়া থেকে সুরাইয়া সুবর্ণা

মালয়েশিয়ায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী যুবক নজরুল ইসলামের (৩২) মরদেহ অবশেষে দেশে ফিরেছে। শনিবার (২ মে) সকালে নিজ গ্রাম গোবরডাঙ্গায় পৌঁছালে শোকের মাতমে ভেঙে পড়ে পরিবার ও এলাকাবাসী।

সকাল ১০টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নজরুল ইসলামকে দাফন করা হয়। নিহত নজরুল ওই গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছোট ছেলে। প্রবাসে নির্মম হত্যার ১৮ দিন পর তার মরদেহ দেশে ফিরল।

পরিবার সূত্র জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে একটি ফ্লাইটে নজরুলের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত প্রায় ৪টার দিকে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে সকালে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

এ সময় বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহতের মায়ের নামে ৩৫ হাজার টাকার সহায়তার চেক প্রদান করা হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, মালয়েশিয়ায় ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে নজরুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তারা দাবি করেন, হত্যার পর তার মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার মতো অমানবিক ঘটনাও ঘটেছে। একই ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি নারী কোহিনুর বেগম নিহত হয়েছেন। গত ১৪ এপ্রিল এই হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড ঘটে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে উন্নত জীবনের আশায় মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন নজরুল ইসলাম। কিন্তু সেই স্বপ্নভূমিই হলো তার জীবনের শেষ ঠিকানা।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর মায়ের কান্না ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখতে ভিড় করেন এলাকাবাসী। এক সময় যে ছেলে পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিল, আজ সে নিথর দেহ হয়ে ফিরল—এই দৃশ্য কেউ মেনে নিতে পারছে না।

পরিবারের একটাই দাবি—এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার হোক। বিদেশের মাটিতে আর কোনো বাংলাদেশি যেন এমন নিষ্ঠুর পরিণতির শিকার না হয়।