বাগেরহাটের শরণখোলায় একটি পরিবারের ওপর হামলা, বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগী রবিন ঢালী ২৬ জনের নাম উল্লখসহ অজ্ঞাত আরো কয়েক জনের নামে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জামাল শিকদারের ছেলে রাজু শিকদার ও রাজৈর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে নাইম ইসলাম নামে দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হাছন চোধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি ভুক্তভোগী পরিবাররটির সার্বিক নিরাপত্তা ও জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ^াস দেন।
পুলিশ জানায়, উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামে রবিন ঢালীর সাথে কয়েক বছর ধরে একই এলাকার প্রবাবশালী সোবাহান হাওলাদারের সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মামলা চলে আসছে। এর জের ধরে সোমবার দুপুরে সোবাহন হাওলাদার, তার দুই ছেলে মিরাজ ও আব্দুল্লাহ এবং দুই ভাই সরোয়ার ও দেলোয়ারের নেতৃত্বে ৫০ থকে ৬০ জনের একটি বাহিনী রবিনের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে প্রথমে বসত ঘর ভাঙচুর শুরু করে। ঘরের চালা, বেড়াচাটকি ও আসবাবপত্র ভেঙে চুরমার করে ফেলে। এতে বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা বাড়ির নারী সদস্য রবিন ঢালীর স্ত্রী সীমা রাণী (৩৫), মা দুলালী রাণী (৭০), নানী বেলকা রাণী (৯০) ও তার দুই খালা বিমলা রাণী (৬০) ও লীলা রাণীকে (৬৫) পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত তরে। আহতদের উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রবিন ঢালী জানান, আমি দীর্ঘদিন চট্টগ্রামে গার্মেন্টে কাজ করতাম। সেই ফাঁকে আমার দলিলকৃত ১৫ শতাংশ জমি প্রভাবশালী সোহরাব হাওলাদার তার নামে রেকর্ড করিয়ে নেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়ভাবে বহুবার সালিস বৈঠকে কোনো সমাধান না হওয়ায় বাগেরহাট আদালতে বাটোয়ারা মামলা করা হয়। ঘটনার সময় আমি ব্যক্তিগত কাজে পাশর্^বর্তী মোরেলগঞ্জ উপজেলায় গিয়েছিলাম। এই সুযোগে সোবাহান হাওলাদার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে এনে আমার বাড়ি জবর দখলের চেষ্টা করেন। সন্ত্রাসীরা বসতঘর, আসবাবপত্র, মালামাল সব ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। দুটি ট্রাঙ্কে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও জমির দলিলপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। বাড়িটি ধ্বংসস্তুপে পরিনত করেছে। তাতে বসবাসের কোনো উপায় নেই। এ অবস্থায় অন্যের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে এখন। খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ছুটে এলে তাদের বাধার মুখে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাবুল দাস ও সাধারণ সম্পাদক গোপাল কর্মকার বলেন, এই হামলার ঘটনাটি সংখ্যালঘুদের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন বাদল বলেন, হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রবিন ঢালীর বাড়িতে ছুটে যাই। সেখানে যাবার পর আমরা রবিনের প্রতিপক্ষ এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দেখতে পাই। আমাদেও দেখতে পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তিনি এঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হকের ভাষ্য, হামলার খবর পেয়ে রবিন ঢালীর বাড়িতে ছুটে যাই। পুলিশ পৌছানোর আগে হামলাকারী সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোটা জব্দ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এঘটনায় মঙ্গলবার সকালে রবিন ঢালী বাদী হয়ে ২৬জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো বেশ কয়েক জনের নামে মাললা করেছেন। দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হাছন চোধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পলাতক অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।