July 29, 2026, 4:54 pm
শিরোনাম:
গঙ্গাচড়ায় গর্তে রাস্তার বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি গাইবান্ধায় আড়াই বছর ধরে আটকে রয়েছে ৭টি সেতুর কাজ, ৪টি সেতুর কাজ শুরু হয়নি রামগতিতে পানির লাইন খুঁড়তে মিলল তিনটি মর্টার শেল সদৃশ বস্তু নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩ এর উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সুধী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে “নাগরিক ভাবনাঃ আমাদের করণীয়” শীর্ষক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী মাদকবিরোধী অভিযানে কৃতিত্বের স্বীকৃতি, সম্মানিত রাঙ্গামাটি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আলমগীর শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আটক ৩ জাপানে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

গাইবান্ধা সদরে মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে শিথিলতা ও অভিযান কমে যাওয়ায় তীব্র জনঅসন্তোষ ও উদ্বেগ

মোঃ মাহমুদুল হাবিব রিপন, গাইবান্ধা থেকে:

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে শিথিলতা এবং নিয়মিত অভিযান কমে যাওয়ার অভিযোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র জনঅসন্তোষ ও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দৃশ্যমান তৎপরতা আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠছে।
‎তবে এরই মধ্যে প্রশাসনিকভাবে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে নতুন করে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, গাইবান্ধা থেকে জারি করা এক ‘অতীব জরুরি’ পত্রে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী গাইবান্ধা জেলা শহরে প্রতিদিন নিয়মিত রেইড পরিচালনার মাধ্যমে সকল মাদক স্পট নিশ্চিহ্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‎গত ১৯ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে জারি করা এ নির্দেশনায় বলা হয়, গাইবান্ধা শহরকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করতে হবে এবং প্রতিটি অভিযানের অফিসিয়াল ছবি জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জেলার দুইটি সার্কেলকে তাদের নিজ নিজ অভিযানের শুরুতে বা শেষে শহরের চিহ্নিত মাদক স্পটগুলোতে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‎এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক রফিকুল ইসলাম, পরিদর্শক তরুণ কুমার রায় ও মোস্তফা জামানকে একাধিকবার নির্দেশনা দেওয়া হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়ে গেছে। তাদের দাবি, পরিচালিত অভিযানগুলো অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতা বা ‘আইওয়াশ’ হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকছে। এ অবস্থায় সাধারণ জনগণের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে সংশ্লিষ্টরা কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছেন বা পরিস্থিতি সম্পর্কে যথাযথভাবে অবগত নন-যা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
‎এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের গাইবান্ধা শিল্পকলা একাডেমি এলাকা, শান্ধার পট্টি, নতুন ব্রীজ সংলগ্ন এলাকা, স্টেডিয়াম, বাংলাবাজার, অফিসার্স কোয়ার্টার, গোরস্থান মোড়, কলেজ মোড়, কাঠপট্টি এবং বাকির মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় মাদক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে।
‎স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পূর্বে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির ফলে মাদক পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ায় অপরাধচক্রগুলো সুযোগ নিয়ে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
‎তাদের মতে, শুধুমাত্র নির্দেশনা জারি করলেই হবে না-তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত, সমন্বিত ও কঠোর অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি।
‎বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইতোমধ্যে মাদকবিরোধী মানববন্ধন ও কর্মসূচি পালন করলেও বাস্তব অগ্রগতি দৃশ্যমান না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
‎স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জারি করা এই ‘অতীব জরুরি’ নির্দেশনা যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে প্রতিফলিত হয়। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব সমাজের সর্বস্তরে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ওপর মারাত্মকভাবে পড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *