July 29, 2026, 4:54 pm
শিরোনাম:
গঙ্গাচড়ায় গর্তে রাস্তার বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি গাইবান্ধায় আড়াই বছর ধরে আটকে রয়েছে ৭টি সেতুর কাজ, ৪টি সেতুর কাজ শুরু হয়নি রামগতিতে পানির লাইন খুঁড়তে মিলল তিনটি মর্টার শেল সদৃশ বস্তু নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩ এর উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সুধী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে “নাগরিক ভাবনাঃ আমাদের করণীয়” শীর্ষক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী মাদকবিরোধী অভিযানে কৃতিত্বের স্বীকৃতি, সম্মানিত রাঙ্গামাটি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আলমগীর শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আটক ৩ জাপানে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

গাইবান্ধা জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে নাজুক অবস্থা জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় বাড়ছে সেবাগ্রহীতার ভোগান্তি

‎মোঃ মাহমুদুল হাবিব রিপন, গাইবান্ধা থেকে:

‎গাইবান্ধা জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, জনবল সংকট এবং জায়গা সংকটের কারণে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমিত জনবল ও অবকাঠামো দিয়ে বিপুল পরিমাণ কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে সেবা প্রদানে বিলম্ব হচ্ছে।
‎সরেজমিনে দেখা যায়, ১৯৯৬ সালে নির্মিত ভবনটি বর্তমানে আংশিক জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পানি চুইয়ে পড়া এবং বৈদ্যুতিক তারের অপরিকল্পিত সংযোগ নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। যদিও অফিসটির কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮৮ সালে, তবে সময়োপযোগী সংস্কারের অভাবে ভবনটির ব্যবহারযোগ্যতা কমে গেছে।
‎অফিস-সংলগ্ন সাব-রেজিস্ট্রি অংশটি মূলত প্রায় ৫৪ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও সড়ক সম্প্রসারণের কারণে বর্তমানে প্রায় ৪৯ শতাংশ জমি অবশিষ্ট রয়েছে। অবশিষ্ট এই জায়গার মধ্যেও দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে কিছু অংশ অবৈধভাবে দখল করে স্থায়ী দোকান গড়ে তোলা হয়েছে। এতে অফিসের নিজস্ব জায়গা সংকুচিত হয়ে কার্যক্রম পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
‎সংশ্লিষ্টরা জানান, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে পরিকল্পিতভাবে জায়গা ব্যবস্থাপনা করা গেলে দলিল লেখকদের জন্য নির্দিষ্ট বসার ব্যবস্থা, সেবাগ্রহীতাদের জন্য অপেক্ষমান স্থান এবং যানবাহন রাখার সুবিধা তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে করে সেবার পরিবেশ আরও সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব হবে।
‎জনবল সংকট এখানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। রেকর্ড রুমে পূর্বে সাতজন কর্মী কাজ করতেন, যাদের দৈনিক মজুরি ছিল মাত্র ৬০ টাকা। এই অত্যন্ত স্বল্প পারিশ্রমিকের কারণে অনেকেই দীর্ঘদিন টিকতে না পেরে চাকরি ছেড়ে দেন বা বিকল্প কাজে চলে যান। ফলে বর্তমানে কর্মীসংখ্যা কমে বিভিন্ন কারণে চারজনে দাঁড়িয়েছে। একজন কর্মী মারা গেছেন, একজন অপকর্মের অভিযোগে বহিষ্কৃত হয়েছেন এবং আরেকজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চারজন কর্মী দিয়েই সাতটি উপজেলার বিপুল পরিমাণ রেকর্ড সংরক্ষণ, দলিলপত্র যাচাই-বাছাই, মামলার কাগজপত্র সংরক্ষণ এবং তথ্য সরবরাহের কাজ পরিচালনা করতে হচ্ছে।
‎রেকর্ড কিপার মশিউর রহমান জানান, সীমিত জনবল ও স্বল্প মজুরির কারণে এত বড় পরিসরের কাজ পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক সময় সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
‎এছাড়া অফিসে সাধারণ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা ও দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে। ফলে দলিল বা তথ্য সংগ্রহ করতে এসে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং ভোগান্তির শিকার হন।
‎জেলা রেজিস্ট্রার জহুরুল ইসলাম-এর কার্যালয়ের অধীনে গাইবান্ধা জেলার ৮২টি ইউনিয়ন, ১১২৪টি মৌজা এবং পৌর এলাকার ৪টি মৌজার দালিলিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এত বড় পরিসরের কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
‎সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত ভবন সংস্কার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং সেবাগ্রহীতাদের জন্য বসার ও দিকনির্দেশনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এই গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রতিষ্ঠানটি আরও কার্যকর ও জনবান্ধব হয়ে উঠবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *