October 8, 2026, 6:57 pm

শিবচরের কুতুবপুরে ‘গণ-উন্নয়ন’ সমিতির বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ নিয়ে জটিলতার অভিযোগ

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধিঃ

সঞ্চয়-ঋণের হিসাব প্রকাশ, টাকা ফেরত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কুতুবপুরে ‘গণ-উন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি’র একটি শাখার বিরুদ্ধে শতাধিক নিম্নআয়ের মানুষের সঞ্চয় ও ঋণের অর্থ নিয়ে জটিলতা, হিসাবের অসঙ্গতি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের অর্থ ফেরত, গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ, মামলা ও হয়রানি বন্ধ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সম্প্রতি উপজেলার কাঠালবাড়ী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে কাঠালবাড়ী ইউনিয়ন ও আশপাশের চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় ব্যানার হাতে তারা নিজেদের পাওনা অর্থ ফেরত, সঞ্চয় ও ঋণের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ, মামলা-সংক্রান্ত হয়রানি বন্ধ এবং অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চরাঞ্চলের অধিকাংশ ভুক্তভোগী দিনমজুর, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্নআয়ের মানুষ। সংসারের প্রয়োজন মিটিয়ে অল্প অল্প করে সঞ্চয় করা অর্থ এবং সমিতি থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করেও অনেকে বর্তমানে আর্থিক ও আইনি জটিলতায় পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, তারা দীর্ঘদিন ধরে ‘গণ-উন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি’র কুতুবপুর শাখার সঙ্গে সঞ্চয়, ঋণ ও কিস্তিভিত্তিক বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মীদের মাধ্যমে নিয়মিত সঞ্চয়ের টাকা জমা এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেছেন বলে দাবি করেন তারা।

তাদের অভিযোগ,পরবর্তী সময়ে সঞ্চয়ের টাকা ফেরত নেওয়া, ঋণের হিসাব সমন্বয় এবং কিস্তি পরিশোধের তথ্য নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দেয়। কয়েকজনের দাবি, নির্ধারিত ঋণের অর্থ পরিশোধ করার পরও তাদের বিরুদ্ধে মামলা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, তাদের ব্যক্তিগত হিসাবের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের হিসাবের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কে কত টাকা সঞ্চয় করেছেন, কত টাকা ঋণ নিয়েছেন, কত টাকা কিস্তি দিয়েছেন এবং বর্তমানে কার কত টাকা বকেয়া বা পাওনা রয়েছে এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কয়েকজন অভিযোগ করেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিস্তির টাকা নেওয়ার পর সদস্যদের কিস্তির বইয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তা তোলা হয়নি। আবার গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণের পর তা সংশ্লিষ্ট সদস্যের হিসাবে জমা না দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, নিয়মিত কিস্তি পরিশোধের পরও অনেকের হাতে কিস্তির বই দেওয়া হয়নি কিংবা টাকা দেওয়ার সময় বইয়ে তা লিপিবদ্ধ করা হয়নি। এতে পরবর্তীতে কিস্তি পরিশোধের প্রমাণ নিয়ে তারা সমস্যায় পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ ছাড়া ঋণ নেওয়ার সময় কোনো কোনো গ্রাহকের কাছ থেকে ব্যাংকের স্বাক্ষর করা বা ‘ব্ল্যাংক’ চেক নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কয়েকজন। পরে ওই চেক ব্যবহার করে মামলা বা আইনি জটিলতায় ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

তবে ব্ল্যাংক চেক গ্রহণ, চেকের ব্যবহার এবং এ-সংক্রান্ত মামলাগুলোর প্রকৃত ঘটনা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট চেক, ঋণচুক্তি, কিস্তির রসিদ, হিসাবের খাতা, ব্যাংক হিসাব এবং আদালতের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

ভুক্তভোগী হাসান মৃধা বলেন, ২০২১ সালে বিদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি গণ-উন্নয়ন থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। তার দাবি, ওই ঋণের টাকা তিনি পরিশোধ করেছেন। তবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তার কাছে টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানানো হচ্ছে।

হাসান মৃধা বলেন, আমি ২০২১ সালে গণ-উন্নয়ন থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করেছি। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে কীভাবে তারা আবার আমার কাছে টাকা পাবে এটাই আমার প্রশ্ন। আমি এই হয়রানির বিচার চাই। আমাদের এলাকার বেশির ভাগ পরিবারই এই প্রতিষ্ঠানের কারণে নিঃস্ব হয়ে গেছে।