বাংলার ঐতিহ্য আর গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি ‘সোনালী আঁশ’ পাট। বর্ষার মৌসুমে গাইবান্ধার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন দুলছে সেই সোনালী স্বপ্ন। জেলার সাতটি উপজেলায় পুরোদমে চলছে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ। ভালো ফলন এবং ন্যায্যমূল্যের প্রত্যাশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন হাজারো কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ মৌসুমে গাইবান্ধায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৯৮৭ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। ২০ আগস্ট পর্যন্ত ১৩ হাজার ৮১৮ হেক্টর জমির পাট কর্তন সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট আবাদি জমির প্রায় ৯৯ শতাংশ। প্রতি হেক্টরে গড় ফলন হয়েছে ১ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন।গাইবান্ধা সদর, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী, সাঘাটা, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর উপজেলার মাঠে এখন একই চিত্র। কৃষকদের ভাষ্য, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। এখন তাদের একটাই প্রত্যাশা-বাজারে যেন পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হয়।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পাট একটি পরিবেশবান্ধব অর্থকরী ফসল। এর চাহিদা দেশ-বিদেশে বাড়ছে। উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হলে কৃষক পাট চাষে আরও বেশি আগ্রহী হবেন এবং জেলার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সোনালী আঁশ শুধু একটি ফসল নয়; এটি বাংলার ঐতিহ্য, কৃষকের ঘাম, সংগ্রাম ও স্বপ্নের প্রতীক। গাইবান্ধার মাঠে মাঠে এখন সেই সোনালী আঁশ ঘিরেই রচিত হচ্ছে নতুন সম্ভাবনার গল্প।