দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কে এম হেমায়েতউল্লাহ আওরঙ্গজেবের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করেছেন, দৈনিক দিনকাল ও ডেইলি সানের শরীয়তপুর প্রতিনিধি সাংবাদিক আল-আমিন শাওন। সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রয়াত এই জননেতার সঙ্গে কাটানো শেষ মুহূর্তের স্মৃতি তুলে ধরে আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করেন।
ফেসবুক পোস্টে আল-আমিন শাওন লিখেছেন, প্রতি বছরের ৩ আগস্ট ফিরে এলেই তাঁর বুক ভারী হয়ে ওঠে। স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে এমন একজন মানুষের মুখ, যিনি শুধু একজন জনপ্রতিনিধি ছিলেন না; ছিলেন অসংখ্য মানুষের আশ্রয়স্থল, অভিভাবক ও প্রিয় মানুষ।
তিনি জানান, ২০১৩ সালের ২ আগস্ট জাজিরার একটি অনুষ্ঠানে হেমায়েতউল্লাহ আওরঙ্গজেবের সঙ্গে তাঁর শেষ দেখা হয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষে আবারও দেখা হবে—এই বিশ্বাস নিয়েই বিদায় নিয়েছিলেন। কিন্তু পরদিনই আসে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ। এদিকে, ওই জাজিরার অনুষ্ঠানের খবর পরদিন দৈনিক দিনকাল-এ প্রকাশিত হলেও নিজের জীবনের শেষ সংবাদটি আর দেখে যেতে পারেননি এই প্রবীণ রাজনীতিক।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরদিন ডামুড্যায় আরেকটি অনুষ্ঠানে হেমায়েতউল্লাহ আওরঙ্গজেবের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই সফর আর হয়নি। তাঁর মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক অঙ্গনের নয়, অসংখ্য মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।
সাংবাদিক আল-আমিন শাওন তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে লেখেন, শত শত মানুষের সামনে হেমায়েতউল্লাহ আওরঙ্গজেব তাঁকে স্নেহভরে ‘দিনকাল শাওন’ বলে ডাকতেন। সেই আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও স্নেহ আজও তাঁর হৃদয়ে অম্লান। এখনো কোনো অনুষ্ঠানে গেলে মনে হয়, হয়তো আবার সেই পরিচিত কণ্ঠে ডাক শুনতে পাবেন। কিন্তু বাস্তবতা তাঁকে বারবার মনে করিয়ে দেয়, সেই ডাক আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।
তিনি আরও বলেন, ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রিয় নেতার স্মৃতি একটুও মলিন হয়নি। সময়ের সঙ্গে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা আরও গভীর হয়েছে। মানুষের কল্যাণে নিবেদিত কিছু মানুষ শারীরিকভাবে বিদায় নিলেও তাঁদের কর্ম, আদর্শ ও মানবিকতা মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকে।
পোস্টের শেষাংশে সাংবাদিক আল-আমিন শাওন মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, যেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এম হেমায়েতউল্লাহ আওরঙ্গজেবকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করা হয়, তাঁর কবর নূরে পরিপূর্ণ করা হয় এবং তাঁর সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি প্রয়াত নেতার পরিবারের সদস্যদের জন্য ধৈর্য, সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় জীবনের প্রার্থনা করেন।
উল্লেখ্য, কে এম হেমায়েতউল্লাহ আওরঙ্গজেব শরীয়তপুরের রাজনীতিতে একজন জনপ্রিয় ও জনমুখী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। মৃত্যুর এক যুগ পরও তাঁর স্মৃতি আজও অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে অম্লান হয়ে রয়েছে।