October 8, 2026, 11:26 pm

শিবচরে সরকারি টোলঘর ঘিরে বিতর্ক, লিখিত অভিযোগের পর তদন্তের নির্দেশ

শিবচর উপজেলা প্রতিনিধি মাদারীপুরঃ

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ ক্রোকচর বাজারের সরকারি টোলঘর,বাজারের মাঠ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার, অর্থের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ করা এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবচরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে নির্দেশ দিয়েছেন শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

উপজেলার ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নের স্থানীয়দের অভিযোগ,জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সরকারি টোলঘর এবং বাজার-সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়,সরকারি স্থাপনা অর্থের বিনিময়ে বেসরকারিভাবে চুক্তিবদ্ধ করারও অভিযোগ রয়েছে একটা চক্রের বিরুদ্ধে ।এতে সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে,স্থানীয় সরকার (হাট ও বাজার) ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী সরকারি হাট, বাজার, টোলঘর ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনার মালিকানা রাষ্ট্রের। এসব সম্পত্তি কেবল সরকারের অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হওয়ার কথা। ফলে যথাযথ সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষে এসব সম্পত্তি ভাড়া দেওয়া, চুক্তিবদ্ধ করা বা ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে রাখা আইনগতভাবে বৈধ নয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মো:দেলোয়ার খান নামে এক ব্যক্তি একটি বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রায় তিন লাখ টাকার একটি চুক্তি সম্পাদন করেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি,ওই চুক্তিপত্রে সাক্ষী হিসেবে শহিদুল ইসলাম, সরদার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আতিয়ার সরদারের স্বাক্ষর রয়েছে। অভিযোগের সমর্থনে সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র ও বিল প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

এ সময় স্থানীয়দের আরও অভিযোগ,সরকারি টোলঘরটি চারদিকে টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। ফলে সাধারণ ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও এলাকাবাসী সরকারি স্থাপনাটি ব্যবহার করতে পারছেন না। তাদের ভাষ্য, এতে সরকারি সম্পত্তি কার্যত ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. ইবনে মিজান বলেন, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবচরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দক্ষিণ ক্রোকচর বাজারে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে স্থানীয়দের পক্ষে ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. কাইয়ুম সরদার বলেন,সরকারি টোলঘর জনগণের সম্পদ। এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে থাকতে পারে না। অবিলম্বে টিনের বেড়া অপসারণ করে টোলঘর জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি স্থাপনা দখল করে সাধারণ মানুষকে ব্যবহার থেকে বঞ্চিতকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জুনায়েদ চোকদার, আকাব সরদার সদস্য, নুর মোহাম্মদ হাং, সমেদ খান, মজিবর সিকদার, মালেক খান, কিনাই আকন, মোতালেব হাং, আবু সাইদ মোল্লা, ইলিয়াস ঘড়ামী,সান্টু হাওলাদার, হোসেন বেপারী ও টুকু সরদার।

আইন সংশ্লিষ্টদের মতে,সরকারি হাট, বাজার, টোলঘর ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। যথাযথ সরকারি অনুমোদন ছাড়া এসব সম্পত্তি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার, দখল, ভাড়া প্রদান বা চুক্তিবদ্ধ করা আইনসম্মত নয়। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, অবৈধ চুক্তি বাতিল, সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে এলাকাবাসীর দাবি,তদন্ত যেন নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্তভাবে সম্পন্ন হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দক্ষিণ ক্রোকচর বাজারের সরকারি টোলঘরসহ সব সরকারি স্থাপনা দ্রুত জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।