পটুয়াখালীর গলাচিপা সদর ইউনিয়নের অক্ষারাম ব্রিজের দুই পাশের সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর বক্তব্য নিতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এলজিইডি কার্যালয়ের এক কর্মচারীর বাক্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অক্ষারাম ব্রিজসংলগ্ন সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের কাজ ও অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানের বক্তব্য নিতে তাঁরা সম্প্রতি এলজিইডি কার্যালয়ে যান। এ সময় সাংবাদিকরা প্রকৌশলীকে সৌজন্যবশত ‘ভাই’ সম্বোধন করে কথা বললে কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক ফরিদ মিয়া প্রকৌশলীর কক্ষে প্রবেশ করে আপত্তি জানান। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “স্যার ডাকবেন, ভাই ডাকছেন কেন?” এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কিছু সময় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, তাঁরা একটি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট উন্নয়নকাজের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়ার পরিবর্তে সম্বোধনকে কেন্দ্র করে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়। এতে দায়িত্বশীল আচরণের পরিবর্তে অসহযোগিতামূলক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।
স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে জনগণের স্বার্থে কাজ করে। সরকারি উন্নয়নকাজে কোনো অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য প্রকাশ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। এ ধরনের পরিস্থিতি তথ্য সংগ্রহের স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করতে পারে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অক্ষারাম ব্রিজের দুই পাশের সড়ক নির্মাণকাজের মান নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন রয়েছে। তাঁরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকল্পের কাজের গুণগত মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান ও হিসাবরক্ষক ফরিদ মিয়ার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি দপ্তরে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে পেশাদার ও সৌজন্যপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়নকাজের বিষয়ে ওঠা অভিযোগও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। এতে জনআস্থা যেমন বাড়বে, তেমনি সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হবে।