July 29, 2026, 4:55 pm
শিরোনাম:
গঙ্গাচড়ায় গর্তে রাস্তার বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি গাইবান্ধায় আড়াই বছর ধরে আটকে রয়েছে ৭টি সেতুর কাজ, ৪টি সেতুর কাজ শুরু হয়নি রামগতিতে পানির লাইন খুঁড়তে মিলল তিনটি মর্টার শেল সদৃশ বস্তু নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩ এর উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সুধী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে “নাগরিক ভাবনাঃ আমাদের করণীয়” শীর্ষক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী মাদকবিরোধী অভিযানে কৃতিত্বের স্বীকৃতি, সম্মানিত রাঙ্গামাটি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আলমগীর শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আটক ৩ জাপানে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল লিটারেসি ও ক্যারিয়ার প্রস্তুতি কোর্সের শিক্ষা-উপকরণ উন্নয়ন কর্মশালা

মোঃনাসির উদ্দিন গাজীপুর

শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখা এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সুগম করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি কলেজের জন্য একটি মানসম্মত ও সুনির্দিষ্ট ‘রিসোর্স মেটেরিয়াল’ ও গাইডলাইন প্রণয়ন করছে।
এ তথ্য জানিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.এস.এম. আমানুল্লাহ বলেন, বর্তমান প্রজন্ম ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত। প্রায় সবার হাতেই স্মার্টফোন রয়েছে এবং তারা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়। শিক্ষার্থীরা এখন শুধু চাকরির প্রত্যাশী নয়, বরং ডিজিটাল অর্থনীতি ও অনলাইন উদ্যোক্তা হওয়ার প্রতিও তাদের আগ্রহ বাড়ছে। তবে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন সঠিক ও পদ্ধতিগত দিকনির্দেশনা।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের চাহিদা ও আগ্রহ ভিন্ন হলেও তাদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি অভিন্ন ও মানসম্মত শিক্ষাসামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে, যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে বাস্তবায়ন করা হবে।
ডিজিটাল লিটারেসি ও সামাজিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, প্রায় এক দশক আগে পরিচালিত এক গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল লিটারেসির হার ছিল মাত্র ১৯ শতাংশ। বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতার এখনও ঘাটতি রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসৌজন্যমূলক আচরণ, ট্রল সংস্কৃতি এবং দায়িত্বহীন ব্যবহার থেকে তরুণদের বের করে আনতে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কিশোর ও তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ডিজিটাল মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তোলাও সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, এই কোর্সের সফলতা নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। এজন্য প্রয়োজন সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ মডিউল, শিক্ষার্থীবান্ধব লার্নিং ম্যাটেরিয়াল, দক্ষ প্রশিক্ষক এবং আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতি। কর্মশালায় প্রণীত শিক্ষা-উপকরণ দেশের লাখো শিক্ষার্থীর শেখার অভিজ্ঞতাকে আরও বাস্তবমুখী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান কর্মক্ষেত্রে সফল হতে শুধু একাডেমিক জ্ঞানই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ডিজিটাল লিটারেসি, তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা, কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা এবং প্রযুক্তির সৃজনশীল ব্যবহার। এসব দক্ষতা গড়ে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ধারাবাহিকভাবে পাঠ্যক্রম ও শিক্ষণ-পদ্ধতিতে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এ ক্ষেত্রে ইউনিসেফ বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতাকে তিনি একটি কার্যকর অংশীদারিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শংকর। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ডিন অধ্যাপক ড. এ.এইচ.এম. রুহুল কুদ্দুস।
কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ, পেডাগজি ও প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ, অনলাইন কোর্স ডিজাইন বিশেষজ্ঞ, ফ্যাসিলিটেটর এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *