হরমুজ প্রণালীতে কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তেহরানের জুমার নামাজের অন্তর্বর্তীকালীন খতিব হোজ্জাতুল ইসলাম আবুতোরাবি-ফার্দ। তিনি বলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থেকে সরিয়ে নেওয়ার মার্কিন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
শুক্রবার(১০ জুলাই) জুমার নামাজের খুতবা দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। খতিব বলেন, গত চার মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালীকে ‘দেশের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে আনার’ জন্য ‘সর্বোচ্চ সক্ষমতা’ প্রয়োগ করেছিল। কিন্তু তারা সবকটি অভিযানেই শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে এবং ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
আবুতোরাবি-ফার্দ ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যার মধ্যে সেনাবাহিনী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিস’র) অন্তর্ভুক্ত তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি এই কৌশলগত জলপথের ওপর ইরানের কর্তৃত্ব বজায় রাখা, ব্যবহারকারী রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মার্কিন সামরিক উসকানির বিরুদ্ধে দৃঢ় জবাব দেওয়ার জন্য তাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
সাম্প্রতিক শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ইরান ও ইরাকে জনগণের ব্যাপক সমাগমকে সম্মিলিত ধৈর্য, ঐক্য ও সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এই জাতীয় সংহতি ইসলামি বিশ্বকে আরও শক্তিশালী করেছে। ইরানের জনগণ আশা করে যে দেশের কূটনৈতিক দল ‘শক্তি ও কর্তৃত্বের’ সঙ্গে আলোচনা চালাবে। একই সঙ্গে আবুতোরাবি-ফার্দ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে আলোচনার টেবিলে ‘প্রতিরোধের তত্ত্ব’ তুলে ধরার আহ্বান জানান।
তেহরানের জুমার নামাজের অন্তর্বর্তীকালীন এই খতিব একতরফা পদক্ষেপ ও সামরিক হামলার মাধ্যমে সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেছেন। নিজেদের ও আঞ্চলিক মিত্রদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইরান আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানান তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, বাহ্যিক হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মূল ভিত্তি হলো জাতীয় ঐক্য। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের প্রয়াত নেতার হত্যার বদলা নেওয়ার যে দাবি উঠেছে, তা বিশ্বজুড়ে মুসলমান ও ‘স্বাধীনতা-কামী মানুষের’ দৃঢ় বিশ্বাসের প্রতিফলন।
সূত্র: ওয়ানা নিউজ এজেন্সি, মেহের নিউজ এজেন্সি।