নির্মাণের দুই বছর অতিবাহিত হলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে রয়েছে দুটি সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ। ফলে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ওই দুই সেতু। আর পাশের সরু ও পুরাতন নষ্ট সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। তবে সমস্যা সমাধান করে সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা যায়, যানজটসহ জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে গাইবান্ধা জেলা শহরের দুটি সড়কে ১৬৬ মিটার দুটি সেতু নির্মাণ করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর পেড়িয়ে গেলেও সেতু দুটির সুফল পাচ্ছেন না মানুষ। সংযোগ সড়ক অভাবে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে আছে দুটি প্রশস্ত সেতু। আর পাশের সরু ও পুরাতন নষ্ট সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন। এতে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গাইবান্ধা জেলা শহরের প্রবেশমুখ, ব্যস্ততম গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের নতুন ব্রিজ এলাকায় ঘাঘট নদীর ওপর পুরাতন সেতুর পাশে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে প্রায় ৭৬ মিটার ঘাঘট-২ নামে একটি নতুন সেতু নির্মাণ করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে। জেলা শহরের আরেক প্রবেশপথ গাইবান্ধা-বালাশীঘাট সড়কের পুলবন্দি এলাকায় পুরাতন সরু সেতু নষ্ট হওয়ায় ও যানজট নিরসনে ২০২২ সালের ২ নভেম্বর শুরু হয় প্রায় ৯০ মিটারের আলাই সেতু নির্মাণের কাজ। শেষ হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে। প্রায় দুই বছরের কর্মযজ্ঞ শেষে সেতু দুটির নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে সেতু দুটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। জেলা শহরের দুটি প্রবেশ পথেই পুরাতন সেতু দিয়ে চলছে যানবাহন। দীর্ঘদিন থেকে এসব সেতুর কাজ শেষ হলেও সুফল না পাওয়ায় ক্ষোভ করছে স্থানীয়রা। নতুন ব্রিজ এলাকার মিঠুন মিয়া বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে সেতু দুটির কাজ শেষ হলেও চালু হচ্ছে না। সেতু দুটি রাতে মাদক সেবীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। পুলবন্দি এলাকার শাহরিয়ার রবিন বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সেতু নির্মাণ করলে তার কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। পরিত্যক্ত থেকে সেতু দুটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উল্টো সরু সেতুতে মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গাইবান্ধা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিয়াস কুমার সেন বলেন, নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই সেতুগুলো চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংযোগ সড়কের ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় তা সম্ভব হচ্ছে না। ভূমি অধিগ্রহণসহ সব কাজ দ্রুত শেষ করতে চেষ্টা করা হচ্ছে। জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬৬ মিটার ওই দুটি সেতু নির্মাণ করে জেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগ।