July 29, 2026, 5:02 pm
শিরোনাম:
গঙ্গাচড়ায় গর্তে রাস্তার বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি গাইবান্ধায় আড়াই বছর ধরে আটকে রয়েছে ৭টি সেতুর কাজ, ৪টি সেতুর কাজ শুরু হয়নি রামগতিতে পানির লাইন খুঁড়তে মিলল তিনটি মর্টার শেল সদৃশ বস্তু নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩ এর উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সুধী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে “নাগরিক ভাবনাঃ আমাদের করণীয়” শীর্ষক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী মাদকবিরোধী অভিযানে কৃতিত্বের স্বীকৃতি, সম্মানিত রাঙ্গামাটি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আলমগীর শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আটক ৩ জাপানে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের বাণিজ্যের সম্ভাবনা ২৫০ কোটিও বেশি

রংপুর প্রতিনিধি:

হাঁড়িভাঙা আম আর মাত্র এক মাস পরই বাজারে আসবে। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের ঐতিহ্য হিসাবে পরিচিত। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি করে রংপুর অঞ্চলে ২৫০ কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আমচাষি ও সংশ্লিষ্টরা। শুধু আম বিক্রি করে নয়, আম পরিবহনেও বিপুল পরিমাণ আয় করবেন পরিবহন মালিকরা। হাঁড়িভাঙা আমের বেশিষ্ট হলো এক বছর কম ফলন হয়। তবে পরের বছর আবার ভালো ফলন হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর ২৫০ কোটিরও বেশি টাকার বাণিজ্য হবে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি করে। এবার হাঁড়িভাঙার ‘অন ইয়ার’ অর্থাৎ গাছে প্রচুর আম ধরেছে, গত বছরের চেয়ে বেশি। হাঁড়িভাঙা আম আঁশবিহীন, মিষ্টি ও সুস্বাদু, খোসা পাতলা এবং আঁটি অত্যন্ত ছোট। প্রতিটি আমের ওজন সাধারণত ২০০-৩০০ গ্রাম হয়। ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের নিজস্ব জিআই পণ্য হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে। চলতি বছর জেলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে অন্যান্য জাতসহ হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে কেবল হাঁড়িভাঙার চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ১০ থেকে ১২ টনা। যার বাজারমূল্য ২৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টি আম বড় ও রসালো হতে বিশেষ সাহায্য করেছে। যদিও মাঝখানে কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় আমের সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে গত বছরের চেয়ে ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে। কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, এবার ডিসেম্বরের প্রথমদিক থেকেই গাছে আমের মুকুল আসতে শুরু করে। ফলে চলতি বছর ঠিক জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে গাছ থেকে আম সংগ্রহ শুরু করা হবে। চাষিরাও বলেন, জুনের মাঝামাঝি সময় পরিপক্ক হাঁড়িভাঙা আম বাজারে পাওয়া যাবে। এর আগে বাজারে আসা আম মূলত অপরিপক্ক থাকে। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় বাজারে অপরিপক্ক আম বিক্রি করে। মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকার হাফিজুর রহমান ও নজরুল ইসলাম বলেন, তারা দুজনে ১৬ একরের বেশি জমিতে হাঁড়িভাঙার চাষ করেছেন। শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বাগানের কিছুটা ক্ষতি হলেও শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে। আমের পাইকার আব্দুল মালেক বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বড় বড় ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যেই হাঁড়িভাঙা আমের জন্য যোগাযোগ শুরু করেছেন। এবার আমের দাম ও চাহিদা দুটোই সন্তোষজনক হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা। জিআই পণ্য হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর হাঁড়িভাঙার ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ বেড়েছে। দেশের ভেতরে সরাসরি বাগান থেকে আম সরবরাহ বেড়েছে। বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। তবে হিমাগার বা আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে চাষিদের কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। হিমাগার থাকলে চাষিরা আম সংরক্ষণ করে তা বিক্রি করতে পারতেন। এতে লাভ বেশি হতো। হাঁড়িভাঙা আম দ্রুত পচনশীল হওয়ায় পরিবহনের জন্য বিশেষ ট্রেন বা দ্রুতগামী যানবাহনের ব্যবস্থা করার দাবি আমচাষিদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *