July 29, 2026, 5:00 pm
শিরোনাম:
গঙ্গাচড়ায় গর্তে রাস্তার বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি গাইবান্ধায় আড়াই বছর ধরে আটকে রয়েছে ৭টি সেতুর কাজ, ৪টি সেতুর কাজ শুরু হয়নি রামগতিতে পানির লাইন খুঁড়তে মিলল তিনটি মর্টার শেল সদৃশ বস্তু নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩ এর উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সুধী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে “নাগরিক ভাবনাঃ আমাদের করণীয়” শীর্ষক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী মাদকবিরোধী অভিযানে কৃতিত্বের স্বীকৃতি, সম্মানিত রাঙ্গামাটি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আলমগীর শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আটক ৩ জাপানে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

ইরানি চমকে হতবাক আমেরিকা

নিউজ পাওয়ার ২৪ ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিয়ে বর্তমানে চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরানকে যতটা দুর্বল ভাবা হয়েছিল দেশটি আসলে তার চেয়ে অনেক বেশি সামরিক সক্ষমতা বজায় রেখেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনও বেশ সচল রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের প্রায় তিন মাস পার হলেও ইরান তাদের পূর্বের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের অন্তত ৭০ শতাংশ রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এর আগে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা এবং ড্রোন ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে কিন্তু বর্তমান গোয়েন্দা তথ্য সেই দাবিকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ইরান ইতিমধ্যে তাদের ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টিই পুনরায় সচল করেছে; যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে যে ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ গুদামগুলোর ৯০ শতাংশই পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তুলেছে যেখানে এখনও প্রচুর পরিমাণে আধুনিক ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। এমন অবস্থায় নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয় যা বর্তমান অচলাবস্থার কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। যুদ্ধের আগে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৬০ থেকে ৭৫ ডলার থাকলেও বর্তমানে তা ১০০ থেকে ১১০ ডলারের মধ্যে অবস্থান করছে। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন আমদানিকারক দেশ এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে চরম সংকটে পড়েছে কারণ তাদের মোট চাহিদার একটি বড় অংশ এই পথেই আসে। ভারত ইতিমধ্যে বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ কর ছাড়ের মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দাবি করে আসছিলেন, ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনীকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প বিভিন্ন বক্তব্যে বলেছিলেন, ইরানের সামরিক নেতৃত্ব এবং তাদের সক্ষমতা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং তারা আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। এমনকি মার্কিন হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও প্রচার করা হয়েছিল যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোর সিংহভাগই এখন অকেজো। তবে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বদ্ধদ্বার বৈঠকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ট্রাম্পের এই দাবিগুলো বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও একটি উদ্বেগের বিষয় উঠে এসেছে, যা হলো মার্কিন বাহিনীর নিজস্ব সমরাস্ত্রের মজুত কমে আসা। ধারণা করা হচ্ছে যে টানা কয়েক মাসের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা টমাহক এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধাস্ত্রের ভাণ্ডার বিপজ্জনক মাত্রায় নিচে নেমে গেছে। যদি এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায় তবে মার্কিন বাহিনী দীর্ঘমেয়াদী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো রসদ সংকটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এই তথ্যটি মিত্র দেশগুলোর মনেও বিশেষ আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে কারণ রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ এবং তাইওয়ানকে নিয়ে চীনের তৎপরতা এখনও বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

অন্যদিকে ইরান তাদের শান্তি প্রস্তাবের মাধ্যমে কয়েকটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আবর্জনা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ না করলে কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়। ওয়াশিংটন বর্তমানে যে অবস্থানে রয়েছে তাতে কোনোভাবেই ইরানকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া বা হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামরিক সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার ঝুঁকি প্রবল হয়ে উঠেছে।

ইরানি বিপ্লবী গার্ড আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তাদের হাতে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার রয়েছে এবং তারা এখনও তাদের সবথেকে শক্তিশালী অস্ত্রগুলো ব্যবহারই করেনি। তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন যে তাদের মজুত করা সমরাস্ত্র দিয়ে বছরের পর বছর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ইরান তাদের মোট মজুতের মাত্র সামান্য একটি অংশ ব্যবহার করেছে যা মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

এই পুরো পরিস্থিতিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বেইজিং। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের মতে চীন এই যুদ্ধ থেকে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা এবং সীমাবদ্ধতাগুলো বোঝার চেষ্টা করছে। তাইওয়ান ইস্যুতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক কৌশলগুলো কেমন হতে পারে তা নিয়ে বেইজিং ইতিমধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *