July 29, 2026, 5:01 pm
শিরোনাম:
গঙ্গাচড়ায় গর্তে রাস্তার বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি গাইবান্ধায় আড়াই বছর ধরে আটকে রয়েছে ৭টি সেতুর কাজ, ৪টি সেতুর কাজ শুরু হয়নি রামগতিতে পানির লাইন খুঁড়তে মিলল তিনটি মর্টার শেল সদৃশ বস্তু নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩ এর উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সুধী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে “নাগরিক ভাবনাঃ আমাদের করণীয়” শীর্ষক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী মাদকবিরোধী অভিযানে কৃতিত্বের স্বীকৃতি, সম্মানিত রাঙ্গামাটি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আলমগীর শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আটক ৩ জাপানে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

দুই পা হারিয়ে মানবেতর জীবন টিটু সরদারের, অনাহারে দিন কাটছে পরিবারের

শাহরিয়ার কবির, পাইকগাছা, খুলনা

রাত গভীর হলে পাইকগাছার আকাশে যেন ভেসে আসে এক অসহায় বাবার নিঃশব্দ কান্না। ভাঙা চালের ফাঁক গলে বৃষ্টির পানি টপটপ করে পড়ে তার নিথর শরীরে, আর সেই পানির সঙ্গে মিশে যায় বুকভাঙা দীর্ঘশ্বাস। পাশে ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাঁদে ছোট সন্তানরা, অন্য কোণে অশ্রু লুকিয়ে বসে থাকেন স্ত্রী। অথচ কিছুই করার নেই পরিবারের কর্তা টিটু সরদারের। কারণ, যে মানুষটি একসময় নিজের দুই পায়ে দাঁড়িয়ে সংসারের সব ঝড় সামলাতেন, আজ তিনি দুই পা হারিয়ে পড়ে আছেন অসহায় জীবনের নির্মম অন্ধকারে। খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াপদা এলাকায় টিটু সরদারের পরিবারের কান্নায় যেন ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ-বাতাস।
একসময় দিন-রাত পরিশ্রম করে সংসারের হাল ধরতেন টিটু সরদার। নিজের কষ্ট ভুলে সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে তার দুটি পা পচে যায়। পরে জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকদের বাধ্য হয়ে সেই পা দুটি কেটে ফেলতে হয়। সেই দিন শুধু তার শরীরের অংশ হারায়নি—ধসে পড়েছে একটি পরিবারের সব স্বপ্ন, সব ভরসা, সব আশ্রয়।
আজ টিটু সরদারের সংসারে নেই কোনো উপার্জনের পথ। অনেক দিন চুলা জ্বলে না ঘরে। সন্তানদের ক্ষুধার্ত মুখের দিকে তাকিয়ে একজন বাবা শুধু নীরবে কাঁদেন। নিজের চোখের জল আড়াল করতে মুখ ফিরিয়ে নেন, কিন্তু বুকের ভেতরের আর্তনাদ থামে না।
স্থানীয়রা জানান, নিজের এই অসহায়ত্ব আর পরিবারের সীমাহীন কষ্ট সহ্য করতে না পেরে টিটু সরদার দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। কারণ, তিনি নিজেকে আজ পরিবারের “বোঝা” মনে করেন। তবে প্রতিবেশীদের তৎপরতায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলেও, তার মনের গভীরে জমে থাকা অন্ধকার এখনো কাটেনি।
এর আগে এলাকার কিছু হৃদয়বান মানুষের সহায়তায় তার অপারেশন সম্পন্ন হয়। কিন্তু অপারেশনের পরও স্বাভাবিক জীবনে ফেরা হয়নি। এখনো ভাঙা চালের নিচে বৃষ্টি, শীত আর অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করেই কোনোভাবে দিন কাটছে পরিবারটির।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো—টিটু সরদারের ছোট ছোট সন্তানরা এখনো বুঝতে পারে না, কেন তাদের বাবা আর আগের মতো হাঁটতে পারেন না। কেন রাতের পর রাত না খেয়ে থাকতে হয়। কেন তাদের ঘরে অন্য সবার মতো সুখ নেই। আর সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন না টিটু সরদার। শুধু নীরবে চোখের জল ফেলেন।
আজ এই পরিবারটির সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি নিরাপদ থাকার ঘর এবং পরিবারের জন্য একটি ছোট আয়ের ব্যবস্থা। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও মানবিক মানুষদের সহযোগিতা পেলে হয়তো আবারও বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে পরিবারটি।
দুই পা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অসহায় টিটু সরদার। পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী ও মানবিক হৃদয়ের মানুষদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। আপনার সামান্য সহায়তাই ফিরিয়ে দিতে পারে একটি অসহায় পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্ন। মানবিক সহায়তার জন্য যোগাযোগ:-টিটু সরদার 01701349980


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *