গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের বাড়ির পরিত্যক্ত গোয়ালঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খুকুমণি নামে এক নারীর বিরুদ্ধে।
রবিবার (৩ মে) দিবাগত রাত ৩টা ৩০ মিমিটে উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের মিরারচর গ্রামে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। জানা গেছে খুকুমণি বসতবাড়ির পরিত্যক্ত একটি গোয়াল ঘরে আগুন দিয়ে প্রতিপক্ষের মামলা থেকে বাঁচতে এ পরিকল্পনা করে বলে অভিযোগ উঠে। খুকুমণি ঐ গ্রামের শাহিদ শেখের স্ত্রী। স্হানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। স্থানীয়রা জানান শাহিদ শেখের স্ত্রী খুকুমণি নিজের পরিত্যক্ত গোয়ালঘরে আগুন দিয়ে চিৎকার করতে থাকে এবং পতিপক্ষ আগুন লাগিয়েছে বলতে থাকে, স্থানীয়রা আগুন নেভানোর পরে খুকুমণি বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে গেলে তাকে প্রতিবেশীরা জিজ্ঞেসা করলে রসহ্য বেরিয়ে আসে।
এ সময় ফুকরাইউনিয়ন এর ৫ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আত্তাব আলী ও গ্রাম পুলিশ হাচান মোল্লা কাশিয়ানী থানা পুলিশকে খবর দেন, ঘটনার সত্যতা জানতে পুলিশ গিয়ে খুকুমনি নামে ঐ মহিলাকে জিজ্ঞেস করলে এক প্রকার বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। আগের মামলার জামিন থাকায় তাকে আটক করা হয়নি বলে জানান পুলিশ।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্হানীয়দের তথ্য মতে পৈতৃক জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো কয়েকবার মারামারির ঘটনা ও ঘটেছে, তাদের পৃথক ভাবে দুপক্ষের মধ্যে দুটি মামলা চলমান রয়েছে,সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সে মামলা থেকে বাঁচতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানান।
উল্লেখ্যঃ মিরারচর গ্রামের মোঃ সাহিদ শেখ ও তার আপন ভাই মন্টু শেখ এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের মধ্যে জমি জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষে একাধিকবার ঝগড়াবিবাদ চলে হয়েছে, শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) জমি জমার সমাধানের কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মন্টু শেখ এর একমাত্র ছেলে বনি আমিন ও তার স্ত্রী আনজেরা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়, এতে প্রায় মৃত্যুশয্যা অবস্থায় রয়েছে বনি আমিন, এ ঘটনায় শাহিদ শেখ ও তার স্ত্রী খুকুমণিসহ জড়িতদের নামে মাললা চলমান রয়েছে। সেই মামলা থেকে বাঁচতে প্রতিপক্ষকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসাতে নিজের ঘরে আগুন দেওয়ার দাবি তাদের।
অন্য দিকে রবিবার (৫ এপ্রিল) মারামারির ঘটনা উল্লেখ করে খুকুমণি বাদি হয়ে মামলা করে, সে মামলায় ১ নাম্বার আসামি করা হয় কাজী ওহিদুল ইসলাম কে যেখানে তার উপস্থিতিই ছিল না, তার প্রমান করে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ড্রেজিং মাষ্টার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিএন, এম আসাদুজ্জামান এর প্রত্যায়নে যেখানে উল্লেখ করা একই সময়ে কাজী ওহিদুল ইসলাম,চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের অধীনে ড্রেজার খনক জাহাজে কর্মরত ছিলেন। এভাবেই মামলা থেকে বাঁচতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছে খুকুমণি।